Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিএনপির সমাবেশের দিন গাড়িতে আগুন দেওয়া ব্যক্তি শনাক্ত

  • পুলিশ বলছে,‘প্রেস’ লেখা ভেস্ট পরা নয়ন বাসে আগুন দিয়েছে
  • গাড়িচালক ‘প্রেস’ লেখাটিকে ‘ডিবি’ বলে ধারণা করে থাকতে পারেন
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:০১ পিএম

বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

অর্ধশতাধিক যানবাহনে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত সাতটি পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

একটি বাসে আগুন দেওয়ার পর সেটির চালক জানান, ভেস্ট পরা এক যুবক তার বাসে আগুন দেয়। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, আগুন দেওয়া ওই ব্যক্তি গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য কি-না?

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। তারা বলেছেন, ভেস্ট পরে বাসে আগুন দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি যুবদল ঢাকা দক্ষিণের সদস্য সচিব। ২০১৩-১৪ সালেও বাসে আগুন দেওয়ার একাধিক ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, তারা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। যেখানে রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে বাসে আগুন দিতে দেখা গেছে। নয়নকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে তার সঙ্গে আরও যারা ছিলেন তাদেরও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর বলাকা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ওই বাসে আগুনের ঘটনাটি ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় বাসটির পাশে ঘুরছেন। বুলেট প্রুফ জ্যাকেটে “প্রেস” লেখা রয়েছে। তার হাতে একটি লাঠি এবং সঙ্গে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ছিল। এর মধ্যে একজন তরল জাতীয় পদার্থসহ একটি বোতল গাড়ির ভেতরে ছুড়ে মারে।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাগুলোর ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহের পর বিশ্লেষণ করেছেন তারা। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম নয়ন ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে “প্রেস” লেখা জ্যাকেট পরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বাসে আগুন দিয়েছে।

শনিবার রাতেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরে আগুন লাগিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সংঘর্ষের সময় যারা পুলিশ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগিয়েছে, ওই চক্রটিই ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ভেস্ট পরা অবস্থায় বাসে আগুন দিতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম নয়নের গ্রামের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুরের পানিঘাটা এলাকায়। ঢাকায় এসে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া নয়ন একসময় ঢাকা মহানগর উত্তরের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের ও পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন।

সাহসী হওয়ার কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনজরে পড়েন তিনি। পরে তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পরে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব পদ দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নয়নের বিরুদ্ধে প্রায় দুই শতাধিক মামলা রয়েছে। মাগুরার মহম্মদপুর ছাড়াও রাজধানী ঢাকার একাধিক থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ও ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ১২ দিনের মাথায় রাজধানীর বাংলামোটরে পুলিশের একটি বাসে, পরীবাগ ও পান্থপথে পৃথক তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি মারা যান।

২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি দুই সহযোগীসহ নয়নকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। নয়নসহ গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে দলে সেই সময় “থ্রি-স্টার” হিসেবে ডাকা হতো। নয়নের নেতৃত্বে তারা তিনজন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দিতো।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, নয়ন আগে থেকেই বাসে আগুন দেওয়ার বিষয়ে দক্ষ। গত শনিবারও সে সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেয়। এবার সে কৌশল হিসেবে “প্রেস” লেখা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে ঘুরে বেড়ায়। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে যুবদল নেতা হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারে।

গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, পুড়ে যাওয়া এক গাড়ির চালক ডিবির জ্যাকেট পরা এক যুবকের আগুন দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটি ছিল নয়ন। গাড়িচালক প্রেস লেখাটিকে ডিবি বলে ধারণা করে থাকতে পারেন। নয়ন ও তার সহযোগীদের ধরতে পারলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কার নির্দেশনায় নয়ন আগুন দিয়েছে তা জানা যাবে।

About

Popular Links