Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারায়ণগঞ্জে জখম তিন পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, কনস্টেবল নুরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:২৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে জখমের শিকার তিন পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জখমের শিকার তিন পুলিশ সদস্য হলেন- পরিদর্শক হুমায়ুন কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মতিন ও কনস্টেবল মো. নুরুল। এদের মধ্যে নুরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কনস্টেবল নুরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরের ডান হাত কুপিয়ে জখমের পর পিটিয়ে বাঁ হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এএসআই মতিনকে লাঠি ও ইটপাটকেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “নুরুলকে ঢামেক হাসপাতালে এবং বাকি দুজনকে রূপগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে।”

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখী বাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন পুলিশ সদস্য ছাড়াও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি-জামায়াতের তিন দিনের অবরোধের সমর্থনে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মিছিল করেন বিএনপি। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠি হাতে গাছের গুঁড়ি, আরসিসি খুঁটি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ বাধা দিলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে।

অবরোধকারী নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেয়। তিনজন পুলিশ সদস্যকে তারা ধরে ফেলেন। পরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন।

এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন। থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-নরসিংদী সড়কে চলাচলকারী অন্তত তিনটি বাস ভাঙচুর করেন অবরোধকারীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষের পর পুলিশের চেষ্টায় সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের পর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি।

অবরোধের প্রথম দিন সকালে দেশের কোথাও তেমনভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের। সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অবরোধ আতঙ্কে রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো গণপরিবহন ছেড়ে যায়নি। মানুষের চলাচল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কম দেখা গেছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এছাড়া রাজধানীর মাতুয়াইলে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার খবর জানিয়েছে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি। ময়মনসিংহতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার পল্টনে ও বনানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া অবরোধ শুরুর আগের রাতে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ কেউ হতাহত হয়নি।

 

About

Popular Links