Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনা

জনগণকেই নিজের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে মনে করেন শেখ হাসিনা

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:২৬ পিএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বের প্রশংসা করে গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অনেক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বের প্রভাবশালী টাইম ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে “শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে টাইম ম্যাগাজিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেয়। প্রতিবেদক চার্লি ক্যাম্পবেল ৭৬ বছর বয়সী এই নেতাকে “মখমলের দস্তানায় লোহার মুষ্টি” উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিস্ময়কর রাজনৈতিক নেতা যিনি গত এক দশকে পাট উৎপাদনকারী থেকে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুততম বর্ধমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যাপক উত্থান ঘটিয়েছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী নারী প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতার মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করতে চান। এক্ষেত্রে তিনি দেশের জনগণের ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন, এবং জনগণকেই নিজের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে মনে করেন।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও “হয়রানির” অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অন্যান্যদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির গত দুটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করেছে। কর্তৃত্ববাদের অভিযোগে শেখ হাসিনা বর্তমানেও বিএনপি ও বিরোধিদের দ্বারা সমালোচিত হচ্ছেন। তবে, এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপি সমর্থকদের অগ্নিসন্ত্রাস ও সহিংসতার বিষয়টি জোরালোভাবে সবার সামনে তুলে ধরছেন।

এতে আরও বলা হয়, সামাজিক সূচক, শিক্ষা ও উচ্চ-প্রযুক্তি উত্পাদনে উন্নতিসহ অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন শেখ হাসিনা।

প্রতিবেদনে বিরোধীদের দমাতে আওয়ামী লীগ অজুহাত হিসেবে “সন্ত্রাস দমনকে” ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়ার উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বিএনপির সমাবেশে পুলিশের পদক্ষেপকে উস্কানিমূলক আখ্যা দিয়ে এই কারণেই বিষয়টি সহিংসতার দিকে গেছে বলে অভিহিত করেন।

এতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে দুজন মানবাধিকারকর্মীকে সেপ্টেম্বরে কারাগারে পাঠানোর কথাও তুলে ধরা হয়। বিচার বিভাগের সমালোচনা করে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার সরকারের রেকর্ড সৃষ্টির বিষয়টিরও ওপর জোর দিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউসের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও কৃষি, পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় আসছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৭।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের সহানুভূতিশীল অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অন্যান্য মানবাধিকার বিষয়ে কিছুটা নীরব ছিল। তবে নির্বাচন এগিয়ে আসায় নিরাপত্তা এবং মানবিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পশ্চিমা চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে শেখ হাসিনা নিজে ও তার বোনের ছয় বছরের শরণার্থী জীবনের কথা তুলে ধরেন। এমন জীবনের দুঃখ-বেদনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন বলেও জানান তিনি।

সরকার শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকা অর্জনের অনুমতি দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। যদিও এতে বলা হয়েছে, এই সঙ্কটে বাংলাদেশ কখনোই একা সিদ্ধান্ত নেয়নি। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

“সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়” এর পররাষ্ট্র নীতির মূলনীতি অনুসারে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গেও দক্ষতার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা এখন পর্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে রাশিয়ান বাহিনীকে ইউক্রেন ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে আনা বিভিন্ন প্রস্তাবে কখনও বিরত থেকেছে আবার কখনও সমর্থন করেছে।

“কিছু বিষয়ে, আমরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেইনি; তারপর অন্য কিছু বিষয়ে আমরা রাশিয়ার বিপক্ষে ভোট দিয়েছি,” বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন উদ্বেগজনক কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা সবসময়ই হয়।

প্রতিবেদনে ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তখনকার প্রেক্ষাপটে সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল গঠনের কথা তুলে ধরা হয়। এছাড়া সমালোচকরা শেখ হাসিনার প্রশাসনকে বাকশাল ২.০ হিসেবে অভিহিত করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে যাই হোক ভীষণ আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাকে উৎখাত করা এত সহজ নয়। একমাত্র বিকল্প হল আমাকে নির্মূল করা। আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত।”

About

Popular Links