Friday, June 14, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কক্সবাজারে ট্রেনের হুইসেল

  • কালুরঘাট সেতুর কাজ শেষ
  • ডিসেম্বরেই ঢাকা থেকে ট্রেন যাবে কক্সবাজারে
  • উদ্বোধনের পর ইন্সপেকশনের কাজ শেষ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৫৭ পিএম

অবশেষে কক্সবাজারবাসীর অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। ট্রেনের হুইসেল পৌঁছে গেল কক্সবাজারে। নতুন রেলপথ ধরে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে এসেছে ট্রেন।

রবিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় আটটি বগি নিয়ে রেলওয়ের ইঞ্জিন চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ে। এটি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে পৌঁছায়।

এর মধ্যে দিয়ে কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ট্রেনের হুইসেল বাজল। তবে এটি যাত্রীবাহী নয়, ছিল পরিদর্শন ট্রেন। এতে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে এবং রেল পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের নব নিযুক্ত স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, “এটি কোনো ট্রায়াল ট্রেন না। নতুন রেলপথ নির্মাণের পর সেটি যাচাই-বাছাই করতে হয়। এটি তারই অংশ। এখানে রেল পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন। মূলত নির্মাণকাজ পরিদর্শন ও ত্রুটি যাচাই করতে তারা এসেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।”

গোলাম রাব্বানি আরও জানান, “পরিদর্শকরা দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে নতুন লাইন ও স্টেশন পরিদর্শন করে কোনো ত্রুটি আছে কি-না তা যাচাই করবেন।”

আগামী ১১ নভেম্বর এই রেলপথ উদ্বোধনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিম দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শন করেন। রবিবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ট্রেন ছাড়ে। ট্রেনটি বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়ায় এবং ধীরগতিতে চালানো হয়। একই সঙ্গে নবনির্মিত রেলপথের সেতুগুলোতেও থেমে থেমে চলে। মূলত উদ্বোধনের আগে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের খুঁটিনাটি সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিম।”

এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. মফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে রবিবার কোনো ট্রায়াল রান হয়নি। গর্ভনমেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে এই রেলপথ ইন্সপেকশন করেছে।”

মো. মফিজুর রহমান আরও বলেন, “এটা ইঞ্জিনের বা গাড়ির ট্রায়াল না, এটা হলো লাইন ঠিক আছে কি-না, রেল চলতে পারবে কি-না, সেটা যাচাই করা। এই লাইনে ঘণ্টায় কত কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারবে তারা তা পর্যবেক্ষণ করে জানাবেন। এটা ট্রায়াল রান নয়, এটা গর্ভনমেন্ট ইন্সপেকশন। উদ্বোধনের আগে এটা করা হয়।”

প্রস্তুত কালুরঘাট সেতু

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট সেতুতে ট্রেন ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান সফল হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি রেল ইঞ্জিন চলে সেতু দিয়ে। শুরুতে সাড়ে ১০ টনের ২২০০ সিরিজ, দ্বিতীয় দফায় ১১.১৬ টনের ২৯০০ সিরিজ এবং সবশেষ ১৫ টনের ৩০০০ সিরিজের ইঞ্জিন সেতুটি দিয়ে চলাচল করে। 

৩০০০ সিরিজের ইঞ্জিন দিয়েই কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যেতে হলে ট্রেনকে প্রায় শতবর্ষী এই সেতু পাড়ি দিতে হবে। এটির সংস্কারের জন্য গত ১ আগস্ট থেকে তিন মাস যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘কালুরঘাট সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েতে নতুন জেলা হিসেবে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার। শনিবার আমরা নতুন মডেলের ইঞ্জিন দিয়ে একাধিকবার ট্রায়াল রান করেছি।”

চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম এই কালুরঘাট সেতু। সড়কপথের সব ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি এ সেতু দিয়ে ট্রেনও চলে। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ রেলসেতুটি। ১৯৫৮ সালে সেতুটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় পাকিস্তান সরকার। ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত ভারি যান চলাচলের কারণে কালুরঘাট সেতু নাজুক হয়ে পড়ে। ২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফা সংস্কার করে রেল কর্তৃপক্ষ।

ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাইন বেঁকে যাওয়া, পুরাতন সেতু মেরামতের দীর্ঘসূত্রিতার মতো জটিলতা এড়িয়ে ১ ডিসেম্বর বাণিজ্যিকভাবে চালু হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন। রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন পৌঁছাবে পর্যটন শহর কক্সবাজারে। ভাড়া ৫১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২,০৩৬ টাকা। আর আগামী ১১ নভেম্বর এই রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে এ রুটে চলাচলকারী ট্রেনের জন্য “প্রবাল”, “হিমছড়ি”, “কক্সবাজার”, “ইনানী”, “লাবনী” এবং “সেন্টমার্টিন” নামে ছয়টি নামও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এই রেলপথ। ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে- ঢাকা থেকে নন এসি শোভন চেয়ার ৫১৫ টাকা, এসি সিট ৯৪৮ টাকা, এসি কেবিন ১,৩৬৩ টাকা এবং এসি বার্থ ২,০৩৬ টাকা।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের আওতায় ৩৯টি বড় সেতু, ২২৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং। হাতি চলাচলের জন্য রয়েছে আন্ডারপাস। দুইটি আন্ডারপাস আছে। নির্মাণ করা হয়েছে ৯টি স্টেশন। 

স্টেশনগুলো হলো- দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার।

About

Popular Links