Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঝুলে থাকা তার আর খুঁটির জঞ্জাল থাকছে না হাতিরঝিলে

তবে চলমান কাজে ধীরগতি জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:১৯ পিএম

হাতিরঝিল এলাকায় সব ধরনের তার ভূগর্ভে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সড়ক মেরামতের কাজ। তবে কাজগুলো ধীরগতিতে হওয়ায় সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে বলে জানা যায়।

সরকারি সূত্র বলছে, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) উভয়ই সেপ্টেম্বর মাসে তাদের কাজ শেষ করে। নিয়ম অনুযায়ী সড়ক মেরামতের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজউক) জমা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজউক নিযুক্ত ঠিকাদার সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করলেও তা চলছে খুবই ধীরগতিতে।

ডিপিডিসি ও পিজিসিবি হাতিরঝিল লেকে তাদের ঝুলে থাকা তার ভূগর্ভে নিতে সড়ক খনন করে। এরপর উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলো ভূগর্ভে প্রতিস্থাপন করে। ডিপিডিসি জুনে প্রথমে তার অংশের কাজ শেষ করে। সেপ্টেম্বরে পিজিসিবির কাজ শেষ হয়।

পিজিসিবি কর্মকর্তারা জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর রাজউক তার এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় সড়ক মেরামত করবে।

সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, রাজউকের নিয়োগ করা ঠিকাদার মগবাজার রেড ক্রিসেন্ট এলাকায় রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছে। কাজের ধীরগতি যাত্রীদের দুর্ভোগকে দীর্ঘায়িত করছে। এজন্য এই সড়ক ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করা রাজীব আহমেদ বলেন, “সবসময় ধুলোবালি ওড়ে। শ্বাসকষ্টে দম বন্ধ হয়ে আসে।”

পিজিসিবির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এবিএম বদরুদ্দোজা খান সুমন জানান, তার প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই মাস আগে কাজ শেষ করে প্রকল্প এলাকা থেকে সব যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়েছে।

এ বছরের মার্চে হাতিরঝিল এলাকায় হাই ভোল্টেজ ওভারহেড ট্রান্সমিশন লাইন প্রতিস্থাপনের জন্য ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপনের কাজ শুরু করে ডিপিডিসি।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, “প্রকল্পের কাজ শেষ হলে হাতিরঝিলে ঝুলন্ত তার থাকবে না।”

তিনি বলেন, “হাতিরঝিল এলাকার দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে তারগুলো মাটির নিচে বিছিয়ে দেওয়া হয়, আর তারগুলো রামপুরা ব্রিজ এলাকা দিয়ে মগবাজারে পৌঁছে।”

নগরীর সৌন্দর্যায়ন ও পরিবেশ রক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুলশান, তেজগাঁও ও রামপুরার বিস্তীর্ণ এলাকায় হাতিরঝিল লেকটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ঝুলন্ত তার পরিকল্পনার বাইরে ছিল।

হাতিরঝিল থেকে ঝুলন্ত তার সরানো ডিপিডিসির বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ। যার মাধ্যমে শহরের মধ্য, পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তার সব ঝুলন্ত তার মাটির নিচে নিয়ে যাওয়া হবে। উলন গ্রিড সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি এই কাজে যুক্ত ছিল।

গত বর্ষায় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের তারের কাজের জন্য হাতিরঝিলের দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এখন কাজের ধীরগতি নগরের যাত্রীদের আরও দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। যারা হাতিরঝিল সড়ক ব্যবহার করে দ্রুত গুলশান বা রামপুরা থেকে মগবাজারে পৌঁছান তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

About

Popular Links