Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘কাচ্চি ভাই’ মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অনুমোদনবিহীন বাদাম শরবত উৎপাদন, বিষাক্ত রং, ঘন চিনি ইত্যাদি ব্যবহার না করার জন্য ‘কাচ্চি ভাই’ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ১০:৪৫ পিএম

অনুমোদনহীন বাদাম শরবত উৎপাদন ও বিক্রি করায় “কাচ্চি ভাই”-এর মালিক মো. সোহেল সিরাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত নং-২) আদালত।

একই সঙ্গে ব্ল্যাংক প্যাডে ডাক্তারের অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখায় (যা টেস্ট রিপোর্টের কাজে ব্যবহৃত হয়) শান্তিনগরে অবস্থিত ‌ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টারের মালিক মো. সাল্লাহ উদ্দিন মেহেদী, প্যাথলজি কনসালটেন্ট ডাক্তার ফরিদা ইয়াসমিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।  

বুধবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (আদালত নম্বর-২) বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) আলাউল আকবর পৃথক শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন।

আদেশে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টারের মালিক, ডাক্তার, টেকনোলজিস্টকে এবং খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে “কাচ্চি ভাই”-এর মালিক সোহেল সিরাজকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়াও আদেশে আদালত আগামী ৬ ডিসেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলার আর্জিতে প্রসিকিউটিং অফিসার ও খাদ্য পরিদর্শক মোহাং কামরুল হাসান বলেন, “শান্তিনগরের শান টাওয়ারের ৩য় তলায় অবস্থিত দি ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টারের মালিক গত ৫ নভেম্বর নতুন ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-২ এর স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাং কামরুল হাসান স্বাস্থ্যগত মতামত প্রদানের লক্ষ্যে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবের কম্পিউটারের প্রিন্টারের ভেতরে ‌খালি প্যাডে প্রতিষ্ঠানটির প্যাথলজি কনসালটেন্ট ডাক্তার ফরিদা ইয়াসমিনের স্বাক্ষর দেখতে পান।”

এ সময় স্বাস্থ্য পরিদর্শক এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাল্লাহ উদ্দিন মেহেদী জানান, “ডাক্তার এক সপ্তাহের ছুটিতে আছেন বলে অগ্রিম স্বাক্ষর করে রেখে গেছেন, যা টেস্ট রিপোর্টের কাজে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরিদর্শক খালি প্যাডে ডাক্তারের স্বাক্ষর রেখে যাওয়া সংক্রান্ত তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত স্বীকারোক্তি নেন এবং নমুনা হিসেবে ৩০টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক প্যাড জব্দ করে নিয়ে আসেন।”

পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিষয়টি কর্পোরেশন স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করে বলেন, “গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টারের এ ধরনের কার্যক্রম সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। ফলে সেবা গ্রহীতাগণের স্বাস্থ্যহানি ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পর্যবসিত হচ্ছে। এছাড়াও এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি আমলে নেন এবং গুরুত্ব বিবেচনায় কর্পোরেশনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-২) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আলাউল আকবর ঢাকা গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টারের মালিক মো. সাল্লাহ উদ্দিন মেহেদী, প্যাথলজি কনসালটেন্ট ডাক্তার ফরিদা ইয়াসমিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০৯ এর ৫ম তফসিলের ৩, ১৪, ৬১ ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা লঙ্ঘন করায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অপরদিকে খিলগাঁওয়ের চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত “কাচ্চি ভাই” নামে প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করলে অঞ্চল-২ এর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান গত ১ নভেম্বর সেখানে সরেজমিন পরিদর্শনে যান এবং পরিদর্শনকালে তিনি খাওয়ার অনুপযোগী ও নাম-ঠিকানাবিহীন আনুমানিক ১০০ বোতল বাদাম শরবত জব্দ ও ধ্বংস করেন।

এ সময় তিনি অনুমোদনবিহীন বাদাম শরবত উৎপাদন, বিষাক্ত রং, ঘন চিনি ইত্যাদি ব্যবহার না করার জন্য ম্যানেজার ও কর্মচারীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। 

পরবর্তীতে গত ৭ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক আবারও সেখানে পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাদাম শরবত উৎপাদন ও বিক্রি করার চিত্র দেখতে পান এবং সেগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেন।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক মামলার আর্জিতে প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের কার্যক্রম খাদ্য গ্রহীতার স্বাস্থ্যহানি ও ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

About

Popular Links