Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মনোনয়ন পেতে অর্ধকোটি টাকা প্রতারকের হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ নেতা

প্রতারকদের একজন এনএসআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়ে দীপক কুমারকে ফোন দেন। জানান, তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করছেন

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৭ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকেট পেতে প্রতারক চক্রের কাছে অর্ধকোটি টাকা খুইয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়। প্রতারক চক্রের “নিশ্চিত মনোনয়ন” থেকে ছিটকে পড়ে থানায় মামলা করেন তিনি।

এই মামলায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকায় ও ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলাকায় অভিযান তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নুরুল হাকিম (৩১), হাসানুল ইসলাম জিসান (২২) ও মো. হারুন অর রশিদ (২৯)।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

ক্ষমতাসীন দলের জেলা ইউনিটের শীর্ষ নেতা দীপক কুমার রায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাকে লক্ষ্যবস্তু বানান প্রতারকরা। প্রতারকদের একজন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়ে দীপক কুমারকে ফোন দেন। জানান, “তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কয়েকজনকে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও ইতিমধ্যে কয়েকজনের টিকেট নিশ্চিত করেছেন।”

তাদের কথায় দীপক কুমারের বিশ্বাস এলে তাকে মনোনয়ন নিশ্চিত করার সংবাদ জানানো হয়। এ জন্য ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। বিষয়টি অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য করতে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার মেয়ে পরিচয়ে এক নারীর সঙ্গে কথা বলান তারা। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েন তিনি।

গত ২৬ নভেম্বর নৌকার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে তিনি বুঝতে পারেন তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এরপর পুলিশের কাছে যান।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মনোনয়ন প্রত্যাশীর সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “এই প্রতারক চক্রটি ঢাকা জেলার সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ কামাল হোসেন ও সাভার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ শিবলী জামান পরিচয়ে সরকারি ভাতা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের সদস্য নুরুল হাকিমের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।”

হারুন অর রশিদ বলেন, “মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যে অভিযোগগুলো পেয়েছি, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে  নিয়ে প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।”

About

Popular Links