Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৪৮ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা মুকবুলের

মুকবুলের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও  স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি তাকে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:১৩ পিএম

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দাবি করেছেন মুকবুল হোসেন নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক কর্মচারী। তার অভিযোগ, প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুকবুল জানান, তবে মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর হতে চললেও এখনও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি তিনি পাননি। মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্রের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কাজ হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে মুকবুল হোসেন বলেন,  “আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। এর প্রমাণস্বরূপ কিছু কাগজ আমার কাছে আছে। ২০১৭ সালে আমি শিক্ষক আবুল বাশার মিঞা ও ভারতীয় একটি ক্যাম্প কমান্ড ক্যাপ্টেনের সিল-স্বাক্ষরসহ সেই কাগজগুলো নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করি। সেখানে আমার কাছে কিছু টাকা চাওয়া হয়। আমি টাকা দিতে পারিনি, তাই আমার কাজও হয়নি।”মুক্তিযুদ্ধে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপকমুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার মিঞা । অধ্যাপক আবুল বাশার মিঞা বলেন, “আমি তাকে (মুকবুল) ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় টেলিফোন সংযোগ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন বলে জানি।”

সংবাব সম্মেলনে তিনি আরো জানান, “যুদ্ধের পূর্বে ১৯৬২ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়াতে কাজ শুরু করেন। যুদ্ধকালে তার বয়স ছিল ১৭। সে সময় তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটানোর জন্য টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন করার কাজ করতেন। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের মালি গেদু কাজ করতেন। এখন তিনি বেঁচে নেই।”

তিনি জানান, “এই কাজ করতে গিয়ে মুকবুল হোসেন ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্টপাক হানাদারদের হাতে আটক হন। হানাদাররা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমিতে নিয়ে যায়। সেখানে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। মুকবুল হোসেনের গলায়ও ছুরিকাঘাত করে তারা। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান মুকবুল হোসেন। সেখান থেকে ভারতের একটি গাড়ি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশ স্বাধীন হলে তিনি ফিরে আসেন। এসময় ভারতীয় কমান্ডার কর্তৃক তাকে মুক্তিযুদ্ধের একটি সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়।”

যুদ্ধের পর তিনি রাবির টেলিফোন শাখায় যোগদান করেন। ২০০৩ সালে অবসর নেন। এরপর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচণ্ডী এলাকায় বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিমাসে পেনশন বাবদ সাত হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে চায়ের স্টল আছে তার।


About

Popular Links