Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাবির ফিস্টে বরাদ্দ ৪৯০ টাকা, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ৩০০ টাকার খাবার

  • খাসির রেজালার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন কেউই
  • বরাদ্দের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা
  • খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত কর্মচারীরাও
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম

প্রতি বছর বিজয় দিবসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ‘‘উন্নত খাবার’’ পরিবেশন করা হয়। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে এ খাবারের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘‘ফিস্ট উৎসব’’ নামেও পরিচিত। 

এবার বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) খাবারের মান ও বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে খাবারের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, জনপ্রতি ৪৯০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মেন্যুতে থাকা খাবারের মূল্য কোনোভাবেই ৩০০ টাকার বেশি নয়।

তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ফিস্টে খাবারের মান উন্নত করার চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবারের মেন্যুতে ছিল- পোলাও, রোস্ট, খাসির রেজালা, মুগডাল, মিষ্টি ও একটি করে কমলা লেবু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিজয় দিবসের ফিস্টে ১৮টি আবাসিক হলের মোট ১৮,৩১১ জন শিক্ষার্থীর জন্য জনপ্রতি ৪০০ টাকা বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর বাইরে হল প্রশাসন ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের থেকে কুপনের শুভেচ্ছামূল্য নেওয়া হয় ৩০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, “এটা আমার বিজয় দিবসের প্রথম ফিস্ট। ফিস্টের জন্য আমরা অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করি। এবারের খাবারের মেন্যু ও মান দেখে মনে হয়েছে এর দাম ৩০০ টাকার বেশি হবে না।”

খাবারের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা/ঢাকা ট্রিবিউন

আরও অনেকের মতোই খাবারের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গাজী সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, “অন্যান্য খাবারের স্বাদ মোটামুটি। তবে খাসির রেজালাটা ভালো লাগেনি। যে খাবার পরিবেশন করেছে তার মূল্য আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা হবে সর্বোচ্চ।” 

“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ফিস্টের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা,” বলেন তিনি।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ‘ফিস্ট উৎসব’ আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা। এবারের আয়োজনে খাসির রেজালার মান তুলনামূলক বাজে ছিল। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে প্রশাসনের লক্ষ্য রাখা উচিত।”

শিক্ষার্থীদের কথার সত্যতা মেলে কর্মচারীদের দেওয়া তথ্যেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে হলে দায়িত্ব পালন করে আসছি। অনেকগুলো ফিস্ট দেখেছি। ফিস্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক আশা থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত খাবারের মান আরও বৃদ্ধি করা।”

বিজয় দিবসের এ বিশেষ ভোজে জাবি প্রশাসনের মোট বরাদ্দ ছিল ৭২ লাখ টাকারও বেশি। এছাড়া হল প্রশাসন আলোকসজ্জা,পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিতে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে। নিয়মানুযায়ী হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কুপনের শুভেচ্ছা মূল্য দিয়ে বিশেষ ভোজে অংশ নিতে পারেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি ও বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নিগার সুলতানা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বছরের খাবারের আয়োজনে জনপ্রতি মোট ৪৯০ টাকা বরাদ্দ ছিল। বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটাই ফিস্টের খাবারে খরচ করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের মেন্যুতে খাবারের পাশাপাশি রান্নার সামগ্রী, তেল, মসলা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ হিসেব করে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়েছে। এবারের ফিস্টের খাবারের সার্বিক মান ও পরিবেশন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।”

শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে অবশ্যই আমরা তদারকি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

About

Popular Links