Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এত বড় বাঘাইড় মাছ!

প্রতি কেজি এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এ বিশাল মাছ!

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫৩ পিএম

বগুড়ার গাবতলীতে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় এবার প্রধান  আকর্ষণ ছিল ৭০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ। একদিনের এ মেলায় লাখো মানুষের ঢল নামে এ মাছ দেখতে। প্রতি কেজি এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এ বিশাল মাছ। এত বড় উৎসুক জনতার ভিড় আর মাছের সাথে সেলফি তোলার হিড়িক ছিলো চোখে পড়ার মত। মাছটির বিক্রেতা মো. বিপুল জানান, “প্রতি বছর তিনি বড় মাছ আমদানির চেষ্টা করে থাকেন।” বগুড়া সদরের নিশিন্দারা গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান জানান, “পরিবারের সদস্যরা বড় মাছ খেতে পছন্দ করেন। তাই তিনি প্রতি বছর পোড়াদহ মেলায় আসেন। কারণই প্রতিবছরই এ মেলায় বিশাল মাছ পাওয়া যায়। বোয়াল, চিতল, কাতলা মাছও ছিলো দেখার মত। 

১৫২ বছরের পুরোনো এ মেলায় হরেক রকম সামগ্রীর পাশাপাশি মিষ্টি থাকবে না তাই কি হয়? ৮ কেজি ওজনের  মাছ আকৃতির মিষ্টির  দেখা মিলেছে।   ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে মিষ্টিটি। এছাড়াও কাঠ ও স্টিলের আসবাবপত্র, নানা ধরনের আচার, গরু, মহিষ ও খাসির মাংস, পিঁয়াজ, মরিচসহ সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সমাহার বসেছিল মেলা জুড়ে। আর বিনোদনের জন্য মেলায় ছিল মোটরসাইকেল খেলা, সার্কাস, যাদু খেলা ও নাগরদোলা।

বুধবার সকাল থেকেই উৎসবমূখর পরিবেশে জমে উঠে ঐতিহ্যবাহী মেলা। ১৫২ বছর ধরে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বৃহস্পতিবার সকালে শুধু নারীদের কেনাকাটার জন্য বসবে ‘বউমেলা’।

এলাকার প্রবীণরা জানান, “গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ি বন্দর এলাকায় গাড়িদহ নদী তীরে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে একদিনের ‘পোড়াদহ’ মেলা বসে। প্রায় ১৫২ বছর ধরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে স্থানীয়রা এ মেলার আয়োজন করেন। মেলার প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির নদীর মাছ।” প্রবীণরা আরও জানান, প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বা ফাল্গুনের প্রথম বুধবার ‘পোড়াদহ’ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জমিতে কোন চাষাবাদ হয়না। মেলাকে সামনে রেখে আশপাশের প্রতিটি বাড়ি মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনে ভরে যায়। ঈদ বা অন্য কোনও উৎসবে দাওয়াত না দিলেও পোড়াদহ মেলায় দাওয়াত দেওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির নদীর মাছ। নদী ও সাগরের বড় বড় মাছ, মিষ্টি, ফার্নিচার, তৈজষপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হয়। প্রশাসনের কঠোরতায় কোন জুয়া বা অশ্লীল নৃত্য হয়নি। তবে, মেলায় ইচ্ছামতো টোল আদায় ও অব্যবস্থাপনা ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেলার পরিচালক মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শুধু নারীদের কেনাকাটার জন্য ‘বউমেলা’ অনুষ্ঠিত হবে। গাবতলী থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃংখল পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


About

Popular Links