Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অবসরের পর প্রকৌশলী আশরাফ গড়ে তুলেছেন গাড়লের খামার

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় অন্তত ২৫টি গাড়লের খামার গড়ে উঠেছে। দিন দিন গাড়লের মাংসের চাহিদা বাড়ছে

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম

আশরাফ আলী পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী। ২০২০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর গাড়ল পালনের চিন্তা করেন। পরের বছর যশোরের বেনাপোল থেকে এক বিক্রেতার কাছ থেকে ৩০টি গাড়ল কিনে আনেন আশরাফ। বগুড়ায় নিজ উপজেলা সারিয়াকান্দির যমুনাবিধৌত চরাঞ্চলে গড়ে তোলেন খামার।

দুই বছরের ব্যবধানে আশরাফের খামারে এখন ১৫০টি গাড়ল রয়েছে। খামারের নাম দিয়েছেন, যমুনা গাড়ল খামার। এরই মধ্যে ৩৫ লাখ টাকার গাড়ল বিক্রি করেছেন। আশরাফের সাফল্য দেখে উপজেলায় আরও অন্তত ২৫টি গাড়লের খামার গড়ে উঠেছে। জেলার বাইরে উত্তরাঞ্চলে আরও ১৯টি খামার গড়ে তুলতে সহযোগিতা করেছেন আশরাফ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গাড়ল ভেড়ার একটি উন্নত জাত। এই ভেড়া আকারে বড় হয়। ওজনও বাড়ে দ্রুত। এর মাংস সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও চর্বি কম।

সারিয়াকান্দির ধাপগ্রামের বাসিন্দা আশরাফ জানান, বেনাপোলে এক বিক্রেতা ভারতের রাজস্থান থেকে এনে গাড়ল বিক্রি করতেন। তার কাছ থেকে ২০ থেকে ২২,০০০ টাকা দরে ৩০টি গাড়ল কিনে চরাঞ্চলে খামার গড়ে তোলেন।

তিনি বলেন, “গাড়লের খামার লাভজনক। এখানে ‘লাইভ ওয়েটে’ প্রতি কেজি গাড়লের মাংস ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি মাংস খুচরা পর্যায়ে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।”

প্রকৌশলী আশরাফ আলীর ছেলে সারিয়াকান্দি উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুস শাহাদত শাওন। অফিসের কাজের বাইরে অবসরে বাবার খামারের সার্বিক পরিচর্যা করেন তিনি। তার বাবার খামারে দুজন কর্মচারী ছাড়াও সার্বক্ষণিক একজন পশু চিকিৎসক রয়েছেন।

শাওন বলেন, “উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ১৯টি গাড়ল খামার গড়তেও আমরা সহযোগিতা করেছি। আমাদের অনুসরণ করে সারিয়াকান্দির বিভিন্ন গ্রামে ২৫টি গাড়লের খামার গড়ে উঠেছে।”

তিনি জানান, গাড়ল দেশি ছাগলের মতো লতা-পাতা-ঘাস খায়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গাড়ল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি ও নারী গাড়ল ৩০ থেকে ৩৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। জবাই করার পর প্রতিটি গাড়ল থেকে ওজনের চেয়ে অর্ধেকের কিছু বেশি মাংস পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, দিন দিন গাড়লের মাংসের চাহিদা বেড়েই চলেছে। তারা বগুড়া শহরের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টে গাড়ল সরবরাহ করে থাকেন। ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকে মাংস কিনে থাকেন। চাহিদা বেশি থাকায় পর্যাপ্ত মাংস সরবরাহ দেওয়া কঠিন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল চরের গাড়ল খামারী মাসুদ মিয়া বলেন, “প্রকৌশলী আশরাফ আলীকে দেখে আমিও খামার গড়েছি। বর্তমানে আমার খামারে শতাধিক গাড়ল রয়েছে। গত কয়েক মাসে আমিও অনেক লাভবান হয়েছি।”

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সারিয়াকান্দি শাখার ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রায়ই গাড়লের মাংস কিনে থাকি। এ মাংসে চর্বি এত কম যে, খাওয়ার পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার না করলেও চলে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহ আলম বলেন, “গাড়লের মাংস আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। আশরাফ আলীকে অনুসরণ করে এ উপজেলার হাটফুলবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৫টির মতো খামার গড়ে উঠেছে। পুরো উপজেলায় তিন হাজারের বেশি গাড়ল রয়েছে। গাড়ল পালনে খামারিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

About

Popular Links