Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'শ্বশুরের কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আমার মেয়ে মারা গেছে'

গোবিন্দ বসু বলেন, ঝুলন্ত দেখানো হলেও তার মেয়ের দুই পা ছিল মেঝেতে। তার নাক দিয়ে বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঝরছিল।

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৪২ পিএম

'বখাটেদের অত্যাচারের মুখে আমার মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর নির্যাতন আর শ্বশুরের   কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাদের আঘাতে মারা গেছে আমার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে আঁখি।' 

বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মা জ্যোৎস্না বসু এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন। 

জ্যোৎস্না আরও বলেন, আর কোনো মেয়েকে যেন এভাবে প্রাণ না দিতে হয়। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। 

সংবাদ সম্মেলনে গৃহবধূ আঁখি বোসের বাবা যশোরের কেশবপুর উপজেলার স্কুল শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র বসু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৭ সালে তার মেয়েকে বিয়ে দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এসকে বোসের ছেলে অরুপের সঙ্গে। বিয়ের সময় সোনা ও নগদ টাকা দেওয়ার পরও অরুপ যৌতুক বাবদ বার বার টাকা চাইতেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্যাতন করতেন। এমনকি অরুপের বাবা এসকে বোস বিভিন্ন সময়ে আঁখিকে কুপ্রস্তাব দিতেন। 

গোবিন্দ চন্দ্র আরও জানান, শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে আপত্তি করায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে আঁখিকে হত্যা করে তার কক্ষের সিলিং ফ্যানে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। হত্যার পর বাড়ির লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে নিজেদের পাসপোর্ট ও ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জানতে পেরে গ্রামবাসী ওই পরিবারের লোকজনকে অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে আঁখির শ্বশুর শ-শুড়ি ও স্বামীকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 

এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান বাবা গোবিন্দ বসু। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ঝুলন্ত দেখানো হলেও তার মেয়ের দুই পা ছিল মেঝেতে। তার নাক দিয়ে বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঝরছিল। তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন মেলেনি। এমনি কি তার জিহ্বাও ছিল স্বাভাবিক। 

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুজ্জামান জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার সহযোগিতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 


About

Popular Links