Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করায় ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাজশাহীর আড়ানী হাটে গরুর মাংস বিক্রি করছিলেন মামুন। তার দোকানের পাশেই মাংস বিক্রি করছিলেন খোকন হোসেন। মামুন বিক্রি করছিলেন ৬৫০ টাকা কেজি দরে আর খোকন বিক্রি করছিলেন ৭০০ টাকা কেজি দরে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:১১ পিএম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে খাবারের প্লেট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল গরুর মাংস। গত বছরের অধিকাংশ সময় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৮০০ টাকায়। ভোটের আগে গত ডিসেম্বরে হঠাৎ করেই কমে যায় এই খাদ্যপণ্যটির দাম। ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রিতে মাংস ব্যবসায়ীও ফিরে পায় প্রাণ। তবে “কম দাম” নিয়ে শুরু হয় নানা তর্ক-বিতর্ক।

সেই তর্ক-বিতর্কের বলি হয়েছেন রাজশাহীর বাঘায় এক মাংস ব্যবসায়ী। আরেক ব্যবসায়ার হাতে হেত্যার শিকার হয়েছেন তিনি।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আড়ানী হাটে মামুন হোসেন (৩০) নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে খুন করেন আরেক মাংস ব্যবসায়ী খোকন হোসেন। সম্পর্কে মামুন ও খোকন মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাদের বাড়ি আড়ানী পৌরসভায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী হাটে শনিবার গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করছিলেন মামুন। তার দোকানের পাশেই মাংস বিক্রি করছিলেন খোকন হোসেনও। মামুন বিক্রি করছিলেন ৬৫০ টাকা কেজি দরে আর খোকন বিক্রি করছিলেন ৭০০ টাকা কেজি দরে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মামুনকে হত্যা করেন খোকন।

খোকনের দোকানে কাজ করেন আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম। তারা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মামুন ও খোকন পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। একসঙ্গে তারা মাংসের ব্যবসা করতেন। কিছু দিন আগে থেকে তারা ব্যবসা আলাদা করেছেন। শনিবার কমদামে মাংস বিক্রি নিয়ে দুইজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শত শত মানুষের মাঝে প্রকাশ্যে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মামুনকে হত্যা করেন খোকন।”

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে খোকন পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন মাংস ব্যবসায়ীরা। প্রথমে ঢাকায় পরবর্তীতে সারাদেশে এই দাম কার্যকরের ঘোষণা দেন তারা।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) ও মাংস ব্যবসায়ী সমিতির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। তবে ক্রেতার অভাবে এতদিন যে মাংসের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল- এই সিদ্ধান্তের কারণে সেগুলো খুলতে শুরু করে। ফলে কম দামে মাংস বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছিলেন মাংস ব্যবসায়ীরা। আর স্বস্তিও ফেরে জনমনে।

এবার কম দামে মাংস বিক্রি করায় অপর ব্যবসায়ীর ধারালো অস্ত্রের বলি হলেন এক ব্যবসায়ী।

About

Popular Links