Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মেট্রোরেলে বাড়ছে ভিড়, যাত্রী কমছে উত্তরা-মতিঝিল রুটের বাসে

মেট্রোরেলের প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী চলাচল করেন

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৪০ পিএম

ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলে উত্তরা-মতিঝিল রুটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয় গত ২০ জানুয়ারি। এই রুটে সারাদিন প্রথমবার যাত্রী পরিবহনকালে দিনভর এবং সন্ধ্যা ও রাতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় লেগেই থাকে। ফলে উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচল করা বাসগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। লোকসান গুনতে হচ্ছে বাস মালিকদের।

এ বিষয়ে “বিকল্প পরিবহনের” একটি বাসের মালিক মাকসুদুর রহমান নামের একজন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “সারাদিন ট্রেন চলাচল শুরুর আগ পর্যন্ত আমাদের ব্যবসায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এখন আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ২০ জানুয়ারি সকাল ৭টা ১০ মিনিটে উত্তরা স্টেশন ছাড়ে প্রথম ট্রেন। দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ছবিটি তুলেছেন মেহেদী হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতিঝিল-মিরপুর-১২ রুটে বিকল্প পরিবহনের ৩৫টি বাস চলাচল করে। মেট্রোরেলের কারণে ব্যবসায় যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, এজন্য বিকল্প পরিবহণ গত নভেম্বর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত রুট সম্প্রসারণ করে। কিন্তু গত ২৩ জানুয়ারি কোম্পানিটির মাত্র ২৭টি বাস চলাচল করে, বাকিগুলো পার্কিং করে রাখা হয়।

মাকসুদুর জানান, সাপ্তাহিক কাজের দিন সন্ধ্যায় তার বাস মতিঝিল থেকে মিরপুর-১২ পর্যন্ত গেলে প্রতিবার আয় করত দেড় হাজার টাকার বেশি। এখন আয় হয় ১,১০০ টাকা থেকে ১,৩০০ টাকা। ২০১৯ সালে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বাসটি কিনেছিলেন। ঋণ পরিশোধের জন্য অন্য রুটে বাস চালাবেন কি-না তা ভাবছেন।

আজিমপুর-মিরপুর-১২ রুটে চলাচলকারী “মিরপুর সুপার লিংকের” চারটি বাসের মালিক মোহাম্মদ জসিম। তিনি বলেন, “মেট্রোরেলের প্রভাব অকল্পনীয়। সকালে প্রতিটি বাস মিরপুর থেকে আজিমপুর গেলে আয় হত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এখন তা ১,২০০-১,৪০০ টাকায় নেমে এসেছে।”

মেট্রোরেলের সেবা নিচ্ছেন প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী/ফেসবুক

মিরপুর সুপার লিংক বাস মালিকরা এই রুটে ৫০টির পরিবর্তে ৩০টি বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের সেবা নিচ্ছেন প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী। সকালে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেনে যাতায়াত করেন ১,৮০০ থেকে ২,০০০ যাত্রী। এর প্রভাব পড়েছে বাস ব্যবসায়।

মেট্রোরেলে করে পল্লবী থেকে মতিঝিলে যাতায়াত করেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম। তিনি বলেন, “মেট্রোরেল ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে কাটানোর যন্ত্রণা থেকে বাঁচিয়েছে। কখনও কখনও আমার ১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টা লাগত। এখন লাগে মাত্র ৩০ মিনিট।”

মেট্রোরেলে পিক আওয়ার সাধারণত সকাল ৯টা ও বিকেল ৫টা। অফিস শুরু ও শেষের সময়কে কেন্দ্র করে সড়কে এ সময় তীব্র যানজট দেখা যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নগরবাসীর আস্থায় পরিণত হয়েছে মেট্রোরেল। ফলে পিক আওয়ারে মেট্রোরেলে যাত্রীর চাপ কমাতে বগি বাড়ানোর চিন্তাও করছে কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কোম্পানি সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেছেন, “যাত্রীর চাপ কমাতে মেট্রোরেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সংযোজিত হবে। বগি বাড়ানোর চিন্তাও আছে। যে সিস্টেমে আছে সেখানে প্রত্যেক কোচে আরও দুটি বগি যুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া নতুন কোচ প্রয়োজন হলে ভাবা হবে।”

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করেন তিনি। বর্তমানে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল- এ ১৬ স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলমান। ওই অংশের কাজ শেষ হলে কমলাপুরও যাবে মেট্রোরেল।

About

Popular Links