Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইজতেমায় মাওলানা সাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের দাবি

মাওলানা সাদের আগমনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে মুসল্লি পরিষদ

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:১১ পিএম

টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হতে যাচ্ছে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা। গত কয়েক বছরের ধারবাহিকতায় এ বছরও দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমার প্রথম পর্ব ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম পর্বের ইজতেমায় মাওলানা জুবায়ের আহমদ পক্ষের অনুসারীরা অংশ নেবেন। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম পক্ষের অনুসারীরা।

দীর্ঘদিন ধরে দেওবন্দের আলেমদের সঙ্গে দিল্লির নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর মতপার্থক্য চলছে। এই প্রেক্ষাপটে গত কয়েক বছর ইজতেমায় আসার অনুমতি পাননি।

তবে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগের বিশ্ব আমির দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন সাধারণ মুসল্লি পরিষদ। 

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মুসল্লি পরিষদ ঢাকা জেলার উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তখন বাইরে সাধারণ মুসল্লিরা বাইতুল মোকাররম থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধন করে এই দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “তাবলিগের চলমান সংকটে উভয়পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম করণীয় হলো, উভয়পক্ষের মাঝে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, বিগত কয়েক বছর যাবৎ একচেটিয়াভাবে একপক্ষকে ইজতেমার প্রথম পর্বে অংশগ্রহণ করানোসহ তাদের সব শীর্ষ মুরুব্বিদের নির্বিঘ্নে উপস্থিতির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও তাদের শীর্ষ মুরুব্বিদের উপস্থিতি সত্ত্বেও দুই হাজারের অধিক বিদেশি মুসল্লি আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।”

তাদের দাবি, প্রতিবছর দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করতে বাধ্য করার পাশাপাশি তাদের সর্বোচ্চ আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এরপরেও প্রতিবছর সাদপন্থি দশ হাজারের অধিক বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করছেন। যা মাওলানা সাদ কান্ধলভীর উপস্থিতি নিশ্চিত হলে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি উভয়পক্ষের দূরত্ব নিরসন হবে।

তারা বলেন, “চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক বিশ্ব ইজতেমা নিকট ভবিষ্যতে অন্যদেশে স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো ও আফগানিস্তান বিশ্ব ইজতেমা স্থানান্তর করতে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর কাছে আবেদন করেছেন।”

এছাড়াও তারা অভিযোগ করে বলেন, “কাকরাইল মসজিদে আমল বণ্টনে একপক্ষকে অগ্রাধিকার প্রদান, সারাদেশের মসজিদগুলোতে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের বাধাপ্রদান, মারধর, ইজতেমার ময়দান সারা বছর একপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া ও প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিমাতাসুলভ আচরণে অপরপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চনার শিকার হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, মাওলানা সাদ কান্ধলভী গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী ৩৭২টি ইজতেমা পরিচালনাসহ বিভিন্ন দেশ সফর করতে পারলে বাংলাদেশে আসতে বাধা কোথায়? তবে কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উগ্রমহলের ভয়ে বিদেশি মেহমানের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন?

সংবাদ সম্মেলনে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, উভয়পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করা ও বিশ্ব ইজতেমার ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বক্তারা বলেন, “আমাদের একমাত্র দাবি হলো, এই মুহূর্তে তাবলিগের বঞ্চিতপক্ষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিবারণের স্বার্থে প্রথম পক্ষের মতো দ্বিতীয় পক্ষের সর্বোচ্চ মুরুব্বি মাওলানা সাদের উপস্থিতি বিশ্ব ইজতেমায় যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করুন।”

About

Popular Links