Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত কলেজছাত্রের ৯ দিন পর মৃত্যু

নিহত দিপ্ত মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪১ পিএম

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ‍আহত জিজান হাসান দিপ্ত (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সে ঢাকার বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল দিপ্ত।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৬টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাসাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রিন্স মাহমুদ। তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত দিপ্ত ২৪ জানুয়ারি থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ ভোরে সে মারা গেছে।”

নিহত জিজান হাসান দিপ্তের বাড়ি সখীপুর উপজেলার চাকদহ গ্রামে। রাজধানীর হাজারীবাগের বটতলা এলাকার হ্যাপি টাইম স্কুল বাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে সে থাকত।

জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি বাসাইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে যায় জিজান। ২৪ জানুয়ারি দুপুরে সমবয়সী উত্তরপাড়ার নাঈম ও সজল খানের সঙ্গে বাসাইল বাজারে ঘুরতে যায়। সেখান থেকে দিপ্তর বন্ধু নাঈমকে বাজারের একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান শাকিল। এ সময় নাঈমের সঙ্গে দিপ্ত ও সজলও ছিল। সন্ধ্যার দিকে আবার তিনজন (দিপ্ত, নাঈম ও সজল) মিলে বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মনি ক্লিনিকের সামনের মোড়ে পৌঁছালে শাকিলের নেতৃত্বে একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। নাঈম ও সজল দৌড়ে পালিয়ে গেলেও দিপ্তকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শাকিলসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।

দিপ্তকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাকে ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন থেকে দিপ্তকে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ৩১ জানুয়ারি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা সোহেলী সুলতানা দিপা বাদী হয়ে ২৭ জানুয়ারি বাসাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে গ্যাংয়ের প্রধান বাসাইল থানাপাড়ার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ (২৫), বাসাইল শ্মশানঘাটা এলাকার আলমগীর হোসেন (২৪), থানাপাড়ার স্বাধীন মিয়া (২০) ও মনা মিয়া (১৯), থানাপাড়ার অনিক মিয়া (১৯), রাহাত হাসান (২০), জিহাদ মিয়া (১৯) ও সীমান্ত মিয়াকে (১৯) আসামি করা হয়। এছাড়াও আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

মামলার পর ঘটনার মূলহোতা শাকিল, তার সহযোগী অনিক এবং আসাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সকালে জিজান হাসান দিপ্তর মা-বাবা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় ২৭ জানুয়ারি একটি মামলা করেছেন দিপ্তর মা। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

About

Popular Links