Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যে কারণে দাওয়াত পাননি বদি

‘ভাই এটা কি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম যে তাকে দাওয়াত দিতে হবে?'

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:১৬ পিএম

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ করার জন্য কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুর রহমান বদি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করলেও সেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তিনি দাওয়াত পাননি। এ নিয়ে গতকাল শনিবার আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানস্থল ও তার নির্বাচনী এলাকা উখিয়া-টেকনাফে জল্পনা-কল্পনা চলছে, চলছে আলোচনা-সমালোচনাও। 

অবশ্য, এ বিষয়ে এমপি আব্দুর রহমান বদির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বদি এখন সাবেক এমপি। তাকে দাওয়াত দেওয়ার মতো কোনো রুল ছিল না। তাই তিনি দাওয়াত পাননি।

মাদক ব্যবসায়ীদের ‘স্বাভাবিক জীবনের ফেরার’ এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন বদি। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও মাইকিং করে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম দেন তিনি। অন্যথায় কারও দায় নিতে পারবেন না বলেও জানান। সাবেক এই এমপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার নিকটাত্মীয়সহ অনেকে আত্মসমর্পণের জন্য প্রায় একমাস আগে পুলিশি হেফাজতে চলে যান। পরে গতকাল টেকনাফে ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। 

জানতে চাইলে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘ভাই এটা কি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম যে তাকে দাওয়াত দিতে হবে? মূলত, দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টি আমার হাতে ছিল না। এটি আমাদের এসপি স্যার জানবেন।'

যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে দাওয়াত দেয়ার মত আমাদের কাছে কোনো রুল ছিল না। দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেই। এ ছাড়া তিনি তো এখন সাবেক। উনার স্ত্রী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আকতারকে তো দাওয়াত দিয়েছি।'

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, ‘এমপি আবদুর রহমান বদি কেন দাওয়াত পায়নি আমি জানি না। হয়তো আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে মনে করে জেলা পুলিশ তাকে দাওয়াত দেয়নি।' তবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণ তিনি বলতে চাননি।

সাবেক এই এমপির সহকারি হেলাল উদ্দিনও দাওয়াত না পাওয়ার বিষয় জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মোবাইল রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে বদির স্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আকতারও মোবাইল রিসিভ করেননি। 

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন টেকনাফ-উখিয়া আসনের সাবেক এই সাংসদ। কারণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সবকয়টি তালিকায় ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে বদি ও ইয়াবা গডফাদার হিসেবে তার ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয় অনেকের নাম উঠে আসে। আত্মসমর্পণ করতে আসা ইয়াবা কারবারির মতো এমপি বদিও আত্মসমর্পণ করছেন-এমন নানা প্রশ্নে গত এক সপ্তাহ ধরে নানাভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এমপি বদি। 

শনিবার টেকনাফে আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন ইয়াবা কারবারির মধ্যে সাবেক এমপি বদির চার ভাইসহ ১৪ জন নিকটাত্মীয় ছিলেন। তারা হলেন- বদির চার ভাই আব্দুস শুক্কুর (৩৩), আমিনুর রহমান ওরফে আব্দুল আমিন (৪১), শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক (২৯) ও ফয়সাল রহমান (২৯)। 

এ ছাড়াও, বদির ভাগ্নে শাহেদ রহমান নিপু (৩৩), সামশুল আলম শামিম (২৮), ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল (৩৫), নুরুল আলম (২৫) খালাতো ভাই মং অং থৈন (৪৮), বেয়াই সৈয়দ হোসেন (৩৫), তার ভাই জামাল হোসেন (৩০), শাহেদ কামাল (৩৫) ও মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু (৩৪) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এদিকে আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন ইয়াবা কারবারিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (টেকনাফ) বিচারক দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

সেদিন দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় পিস্তল জমা দেন। পরে তিনটি বাসে করে তাদের কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়।

About

Popular Links