Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মেট্রোরেলের কারণে বাস-রাইড শেয়ারিংয়ে দুর্দিন, রিকশার সুদিন

  • সংশ্লিষ্ট রুটের বাসে যাত্রী কমেছে
  • চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রিকশাচালকদের সন্তুষ্টি
  • রাইড-শেয়ারিং চালকরা কম ট্রিপ পাচ্ছেন
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম

গণপরিবহন হিসেবে দেশের প্রথম আধুনিক নগর যোগাযোগ ব্যবস্থা মেট্রোরেল চালুর পর থেকে বেড়েছে রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের গতিশীলতা। এটির কারণে অন্য গণপরিবহন যেমন কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তেমনই তৈরি করেছে নতুন সুযোগও।

উত্তরা-মতিঝিল রুটে মেট্রোরেলের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট রুটে বাসের যাত্রী কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে তাদের রোজগারে।

একইসঙ্গে এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল রাইড-শেয়ারিং পরিষেবাগুলোতেও। কারণ যাত্রী কমেছে তাদেরও।

তবে এই সময়ে চাহিদা বেড়েছে রিকশার। মেট্রো স্টেশনে যাতায়াতের জন্য রিকশা বেছে নিচ্ছেন অনেকেই।

চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে রিকশা চালকদের আয়।

এক রিকশা চালক বলেন, “মেট্রো উদ্বোধন না হলে আমরা পর্যাপ্ত যাত্রী পেতাম না। যাত্রীরা রিকশায় করে স্টেশনে আসেন। মতিঝিল, প্রেসক্লাব, শাহবাগের মতো স্টেশনে মানুষ রিকশায় করে ট্রেন ধরে।”

অপরদিকে, রাইড-শেয়ারিং পরিষেবা, অটোরিকশা ও বাস চালকদের আয়ে মেট্রোরেলের বিরূপ প্রভাব তুলে ধরেছেন। 

রাইড-শেয়ারিং চালকরা কম ট্রিপ, দীর্ঘ অপেক্ষা ও উপার্জন কমেছে বলে অভিযোগ করেন। 

অটোরিকশা চালকরা বিশেষ করে মতিঝিল, শাহবাগ এবং কারওয়ান বাজারের মতো এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য হারে যাত্রী কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

মিরপুর থেকে গুলিস্তান ও মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী বাসগুলোতে যাত্রী কতে যাওয়ায় বাস মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান।

ঢাকার যানজটের মুখে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের জন্য মেট্রো রেল পরিষেবা এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মেট্রোরেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণ হিসেবে সময়মতো পৌঁছানো, ট্রাফিক জ্যাম এড়ানো, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস ও আধুনিক যাতায়াত সুবিধাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অফিস শুরু ও শেষের সময়ে বাস ও অন্যান্য যানবাহন যেখানে যানজটের সৃষ্টি করে স্থবির হয়ে থাকে, সেখানে ভিড় জমলেও এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে দ্রুত চলে যেতে পারেন যাত্রীরা। ফলে নির্ভরযোগ্য ও সময় বাঁচানোর পরিবহন হিসেবে মেট্রোরেলকেই বেছে নিচ্ছেন তারা।

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কথা মাথায় রেখে কোচের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রতিটি ট্রেনে আরও দুটি করে বগি যুক্ত করা অথবা নতুন ট্রেন চালুর মতো কৌশল ভাবছে কর্তৃপক্ষ। 

যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পিক আওয়ারে ১০-৫ মিনিট করে ফ্রিকোয়েন্সি উন্নত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাসে অপরিচ্ছন্নতা, সুযোগ-সুবিধা না থাকাও মেট্রোরেলকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেলে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হিসেবেও নাম কুড়িয়েছে। সবমিলিয়ে ঢাকার যাত্রাপথকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে মেট্রোরেল। ফলে অন্য গণপরিবহন একদিকে পড়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে, আরেকদিকে সৃষ্টি করেছে নতুন সুযোগ।

About

Popular Links