Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সবকিছু কেড়ে নিয়ে যাত্রীদের বাস থেকে ফেলে দেয় গাজীপুরের ছিনতাইকারীরা

যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী চক্রটি সক্রিয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:১৮ পিএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচল করা পথচারী ও বাসযাত্রীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যাত্রীবেশী কিছু ছিনতাইকারী। এই ছিনতাইকারীদের সঙ্গে জড়িত বাসের চালক ও সহকারীদের একটি অংশ। এসব অপরাধীরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যাত্রী ওঠায়। এরপর যাত্রীবেশে বাসে থাকা ছিনতাইকারীরা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের মারধর ও ছুরিকাঘাত করে সবকিছু কেড়ে নিয়ে বাস থেকে ফেলে দেয়।

এমনই একজন ভুক্তভোগী কৃষক আলম মিয়া। ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বজনকে দেখতে রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের একটি লোকাল বাসে ওঠেন। বাসের মধ্যে কয়েকজন যাত্রীকে দেখে তিনিও সেটিতে উঠে পড়েন। বাসটি জৈনাবাজার ছেড়ে কিছুদূর গেলে ভেতরে থাকা যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে মারধর করে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

একই ঘটনা ঘটে গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়ার (৫৫) সঙ্গে।

১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দোকানের মালামাল কিনতে জৈনাবাজার থেকে গাজীপুর যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষা করছিলেন সিরাজ মিয়া। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচল করা একটি লোকাল বাসে তিনি ওঠেন। ওই বাসে চার থেকে পাঁচজন যাত্রী ছিল। বাসটি মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাসে থাকা ছিনতাইকারীরা দরজা বন্ধ করে তাকে সিটের সঙ্গে বেঁধে কিল, ঘুষি ও লাথি দিতে থাকে। এতে তার শরীরে একাধিক জায়গায় জখম হয়। হামলাকারীরা তার জ্যাকেটের পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

সিরাজ মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ছিনতাইকারীরা তাকে মহাসড়কের শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজারের ১০০ গজ সামনে নিয়ে বাস থেকে ফেলে দেয়। এরপর বাসটি দ্রুতগতিতে চলে যায়। এ ঘটনা কারও কাছে বললে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় তিনি ওইদিন রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

সিরাজ বলেন, “ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৬ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো যোগাযোগ করেনি। বক্তব্য বা ঘটনার বর্ণনাও নেয়নি।”

এই ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, “এ বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে ছিনতাইকারীদের হাতে সাধারণ যাত্রীরা এভাবেই নিঃস্ব হবেন। এমনকি হত্যার শিকারও হতে পারেন।”

জানতে চাইলে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মাহবুব মোর্শেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়গুলো লোকাল (শ্রীপুর) থানা পুলিশ দেখবে। আমরা হাইওয়ে থানা পুলিশ এগুলো দেখি না।” 

তিনি ভুক্তভোগীকে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার পণ্ডিত বলেন, “এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলেও আমাকে ঘটনাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি-না এ মুহূর্তে খেয়াল হচ্ছে না। তবে, আমার এক আত্মীয় এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেন, “আমরা সবাই পুলিশ। সবার গায়েই পুলিশের পোশাক রয়েছে। কে হাইওয়ে পুলিশ, কে জেলা পুলিশ, কে শিল্প পুলিশ এবং কে নৌ-পুলিশ তা দেখার কিছু নেই। যেকোনো পুলিশের সামনে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে তারা ওই সময়ের জন্য বিষয়টি দেখতে পারে। এ বিষয়ে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।”

About

Popular Links