Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কারাবন্দি স্বামীর তথ্যে দুই বছর পর মিলল স্ত্রীর ‘নিখোঁজ’ প্রেমিকের মরদেহ

মৃতদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের মাদ্রাসার সেফটি ট্যাংকির পাশে মাটিতে পুতে রাখে হত্যাকারীরা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩০ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিখোঁজের দুই বছর পর মো. মফিজুল ইসলাম (২৫) নামে এক বেকারি শ্রমিকের মরদেহের খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৩ মার্চ) উপজেলার গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বালিকা মাদ্রাসার শৌচাগারের মেঝে খুঁড়ে প্রায় ৭ ফুট নিচ থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শাকিলের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। সম্প্রতি নিহতের মা মা মাইনুর বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা ও গুমের মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার চাঁচকৈড় পুরানপাড়ার আবু তাহের খলিফা ওরফে তারা খলিফা (৫৫), তার মেয়ে তানজিলা আক্তার (২০) এবং তানজিলার মামা খামাড়নাচকৈড় এলাকার মো. আব্দুস সামাদের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৮)। এ ছাড়া কারাগারে বন্দি তানজিলার স্বামী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালোম কাচারিপাড়া এলাকার মো. আল হাবিব সরকারকে (২৫) একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে নিখোঁজ হন উপজেলার চাঁচকৈড় খলিফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম। 

র‍্যাব জানায়, তানজিলা ও মফিজুল চাঁচকৈড় খলিফাপাড়ায় একটি বিস্কুট তৈরির কারখানায় কাজ করার সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পারেন তানজিলার বাবা তারা খলিফা। তিনি মোবাইল ফোনে মফিজুলকে খুনের হুমকিও দেন। এরই জেরে ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তানজিলাকে দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মফিজুলকে ডেকে আনা হয়। তানজিলাদের বাড়ি আসার পর আসামিরা মফিজুলকে আটকে ফেলে এবং তার মুখ স্কচ টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। তারপর মফিজুলকে মাটিতে ফেলে আসামিরা তার বুকে শাবল দিয়ে আঘাত করে। শাবলটি বুকে ঢুকে ঘটনাস্থলেই মারা যান মফিজুল। মৃতদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের মাদ্রাসার সেফটি ট্যাংকির পাশে মাটিতে পুতে রাখে তারা। তাহের খলিফা মাদ্রাসার নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করায় কাজটি নির্বিঘ্নে করতে পেরেছিলেন।

র‍্যাব আরও জানায়, এর মধ্যে তানজিলা ও আল হাবিব সরকারের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তানজিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। এই মামলায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পুলিশ আল হাবিব সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে গিয়ে আল হাবিবের সঙ্গে পরিচয় হয় খলিফাপাড়ার মো. জাকির মুন্সীর সঙ্গে এবং দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই আল হাবিব সরকার কথাচ্ছলে জাকির মুন্সীকে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানান এবং সেই সূত্রে যে মফিজুলকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে সেটিও বলে দেন।

র‍্যাব-৫ নাটোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সন্জয় কুমার সরকার বলেন, “গত সপ্তাহে জাকির মুন্সী জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে মফিজুলের মায়ের কাছে খুনের বিষয়টি জানিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকাবাসীও জানতে পারে। এরপরই মফিজুলের মা মাইনুর বেগম মামলা করেন।”

তিনি বলেন, “মামলার জেরে শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে বাড়ি থেকে তানজিলা ও তার বাবা তারা খলিফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। তাদের দেখিয়ে দেওয়া জায়গা খুঁড়ে মফিজুলের লাশ উদ্ধার করা হয়।”

About

Popular Links