Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নয় বছরে ১ লাখ ৯০ হাজার অগ্নিদুর্ঘটনা

পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায়

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৫:৩৯ পিএম

দেশে গত নয় বছরে ১ লাখ ৯০ হাজার ১৬৭টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। এসব ঘটনায় ১,০৫১ জন নিহত ও ৩,৬০৬ জন আহত হয়েছেন বলেও জানায় সংগঠনটি। ঢাকাসহ সারাদেশে এসব অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে অনুমোদনহীন অবৈধ ভবন, অবৈধ ভূমি ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদারকির অভাব দায়ী বলেও জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “ভবন বিপদজ্জনকতায় আচ্ছন্ন নগরী: প্রেক্ষিতে করণীয়” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় বাপা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতি (বেলা) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) যৌথ উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুরমোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি, স্থপতি ইকবাল হাবিব। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাপার সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি, পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, বিআইপি এর সাবেক সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন, সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, বেলার আইনবীদ এড. হাসানুল হক মান্না।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে গত ৯ বছরে ১ লাখ ৯০ হাজার ১৬৭টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১,০৫১ জন নিহত ও আহত হয়েছে ৩,৬০৬ জন। ঢাকাসহ সারাদেশে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হচ্ছে- অনুমোদনহীন অবৈধ ভবন, অবৈধ ভূমি ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের তদারকির অভাব। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-২০২২ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ এ ‘‘অগ্নিনিরাপত্তা’’ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোকপাত করা হয়েছে ও সব বৃহদায়তন প্রকল্পের জন্য তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুমোদিত ব্যবহার পরিবর্তন অথবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করা হচ্ছে, অথবা ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করার কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবন (১ মার্চ, ২০২৪)/মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

এতে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দেশে নগরায়ণের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি)-১১ অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, অভিঘাতসহনশীল ও টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলার কথা বলেছে। কিন্তু এখনও আমরা একটি নিরাপদ ও অভিঘাত সহনশীল নগরী গড়ে তুলতে পারিনি। নগরে ঘটিত অগ্নিদুর্যোগ আজ বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “একটি রেস্টুরেন্ট স্থাপনে ১০টি সংস্থার প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনাপত্তিপত্র, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেস্টুরেন্ট লাইসেন্স, সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের লাইসেন্স নিবন্ধন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দোকান লাইসেন্স, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ই-ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ফায়ার লাইসেন্স, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পরেশনের পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র।”

ফাইল ছবি: ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার চুড়িহাট্টা এলাকায় রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে (২০ ফেব্রুয়ারি. ২০১৯)/মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুরমোহাম্মদ তালুকদার বলেন, “এ ধরনের প্রতিটি অগ্নিদূর্ঘটনায় হতাহতের পিছনে রয়েছে মুনাফাখোরদের অতি লোভ। তারা যেন কোটিপতি হওয়ার দৌঁড়ে নেমেছে। এতে কে মরলো? তা যেন তাদের দেখার বিষয় না। এই লোভে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করছে সাধারণ মানুষ, আর আসামী করা হচ্ছে সাধারণ কর্মচারীদের। এতে করে প্রকৃত দোষীরা অধরাই রয়ে যাচ্ছে।”

এই মৃত্যুপথ থেকে উত্তরণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, “ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ ধরনের দূর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।” নিরাপত্তার জন্য ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করে সকল ভবনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো রেটিং করা ও হট-লাইন সেবা দ্রুত চালু করার দাবি জানান তিনি।

৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকার নাজিরা বাজারে একটি দোকানে আগুন লাগে/সংগৃহীত ছবি

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আগে দেশের সরকারকে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখতে হবে।” আর যেন এমন ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৩টি প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি।

এতে উপস্থিত বাপা কেন্দ্রীয় নেতারাসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

About

Popular Links