Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সেই শিক্ষক বললেন, গুলি করেছি তবে অনিচ্ছাকৃত

শিক্ষক রায়হান জানিয়েছেন, তার কাছে দুটি পিস্তল ছিল। তবে সেগুলোর লাইসেন্স নেই। বিভিন্ন সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম

শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে গুলি করার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অভিযুক্ত শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফ। তবে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলি করেছেন বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (৪ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সদরের শিয়ালকোল এলাকায় অবস্থিত শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক রায়হানের বিরুদ্ধে আরাফাত আমিন নামের এক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষেই গুলি করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রায়হানকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে সেভেন পয়েন্ট ফাইভ সিক্স বোরের ২টি বিদেশি পিস্তল, ৮১টি গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন ও ১২টি বিদেশি চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে আহত শিক্ষার্থী আরাফাতের বাবা আবদুল্লাহ আল আমিনের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ ঘটনায় সোমবার (৫ মার্চ) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাতুব্বর এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেডিকেল কলেজটিতে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তারা থানায় গিয়ে রায়হান শরীফ নামের ওই শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক রায়হান জানিয়েছেন, তার কাছে দুটি পিস্তল ছিল। তবে সেগুলোর লাইসেন্স নেই। বিভিন্ন সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

শিক্ষার্থীদের রাতে ফোন করার বিষয়ে রায়হান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করার জন্য তিনি এটি করেছেন।

তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি সূত্র জানিয়েছে, তারা তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে তার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ছাড়া তার সহপাঠী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তারা যখন সাক্ষ্য নিচ্ছিলেন, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকের চিকিৎসক সনদ বাতিল করতে হবে।

এই দাবিতে মঙ্গলবার কলেজের সামনের সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দুপাশে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী এ সময় দাবি আদায়ের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা দুপুর সোয়া বারোটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

রায়হান কমিউনিটি মেডিসিনের শিক্ষক। এক বছরের বেশি সময় আগে তিনি এই কলেজে যোগ দেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন বলেও জানা গেছে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “রায়হানকে চাকরিচ্যুত করার জন্য বিধি মোতাবেক সুপারিশ করা হবে।”

এদিকে, তদন্ত কমিটি সূত্র জানিয়েছে, আহত শিক্ষার্থীর আঘাত তেমন গুরুতর নয়। গুলিটি লেগেছে ওই শিক্ষার্থীর প্যান্টের পকেটের কাছে। সেখানে তার মোবাইল ফোন ছিল। গুলিটি আগে মোবাইলে লাগে, সেটি ভেদ করে আঘাত লাগে।

About

Popular Links