Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের ১০ জন নোয়াখালীর

নোয়াখালীর একটি ইউনিয়নেরই প্রায় তিন হাজার মানুষ ঢাকার চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসা ও চাকরি করেন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৩ পিএম

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত সনাক্ত হওয়াদের ৮ জনের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। একজনের বাড়ি বেগমগঞ্জ এবং অন্য একজনের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। হতাহতদের খবর আসার পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। কেউ কেউ আবার স্বজনদের কোনও সন্ধানই পাচ্ছেন না। তারা বেঁচে আছেন কি মরে গেছেন, তাও জানেন না। 

নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন খোকন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের খাসের বাড়ির মো. সাহেব আলীর দুই ছেলে মাসুদ রানা (৩০) ও মাহবুবুর রহমান রাজুর (২৮) মৃত্যু হয়েছে। 

নিহতের বাবা ও চাচা আবদুর রহিমের উদ্ধৃতি দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাদের শনাক্ত করেন। 

এছাড়া, এই ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামের মিয়ন হাজি বাড়ির ভুলু মিয়ার ছেলে মো. আলী (৫৫), বটতলি গ্রামের শাহাদাত হোসেন হিরা (২৭), মির্জা নগর গ্রামের মমিন উল্যাহর ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (২৮) ও গাউছ মিয়ার ছেলে নাছির উদ্দিন (২৯), মধ্য নাটেশ্বর ৪ নং ওয়ার্ডের মোল্লা বাড়ির সিদ্দিকুল্লাহ ও দিঘিরজান মিঝি বাড়ির হেলাল উদ্দিনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন তিনি।  

চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, স্বজনরা মাসুদ রানা, রাজু, মো. আলী, সিদ্দিকুল্লাহ ও হেলাল উদ্দিন এর লাশ গ্রহন করে নোয়াখালীর পথে রওনা হয়েছেন।

তিনি বলেন, রাতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে থাকা আমাদের ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বজনরা আতঙ্কে রয়েছেন। সকালে নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ পর্যন্ত আমরা ৮ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। তবে নিখোঁজ অনেকের হতাহতের আশঙ্কায় স্বজনরা আহাজারি করছেন। 

চেয়ারম্যান আরও জানান, শুধু নাটেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার মানুষ ঢাকার চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসা ও চাকরি করেন।  

সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ জানান, চক বাজারের ঘটনায় সোনাইমুড়ি এলাকার ৩০-৩৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আলম মোল্লা জানান, উপজেলার নূর মোহাম্মদ এর ছেলে কামাল হোসেন (৪৫) এর লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে সকল চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগ করলে কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মৃত শহীদ উল্যাহ এর ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৫) এর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, জসিম উদ্দিন চক বাজারের একটি কসমেটিক্স এর দোকানে চাকরি করত। দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার সময় আগুন লাগলে মারা যান তিনি।   

About

Popular Links