Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধনী-গরিব সবার জন্য টাঙ্গাইল শহিদ মিনারে বিনামূল্যে ইফতার

  • ট্রাফিক পুলিশদের জন্যও সরবরাহ করা হয় ইফতার
  • গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সর্বমহলে
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০২:১৮ পিএম

রমজানের প্রথম দিন থেকে টাঙ্গাইল শহরের শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে বিকেল না হতেই দেখা যায়, কয়েকজন মানুষ ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত। পাশেই ব্যানারে লেখা ‘‘মাসব্যাপী সবার জন্য ইফতার’’। 

সময় যত ঘনিয়ে আসে সেখানে বাড়তে থাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড়। পার্থক্যটা হলো এই ইফতার সরবরাহ করা হয় বিনামূল্যে, সবার জন্য।

ইফতারের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে শহিদ মিনারে ছোটখাট সমাবেশ হয়ে যায়। আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য শহরের সামর্থ্যহীনদের পাশাপাশি কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ইফতার সরবরাহ। 

উদ্যোগটি নিয়েছেন ত্রিবেণী টাঙ্গাইল এবং বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি ব্যাচ ১৯৯২। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ জন রোজাদারকে বিনামূল্যে তারা ইফতার সরবরাহ করেন। 

তাদের এই উদ্যোগ সমাজের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা পেয়েছে। সামর্থ্যহীন অসহায় মানুষ বিনামূল্যে ইফতার করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। 

কারা আসেন?

প্রতিদিন টাঙ্গাইল শহিদ মিনারে ইফতারের জন্য সারিবদ্ধভাবে বসেন শত শত মানুষ। তাদের কেউ কেউ স্কুলছাত্র, কেউ ব্যবসায়ী, আবার অনেকেই ভ্যান ও রিকশার চালক, ভিক্ষুক। আসেন পথচারী এবং অনেক সামর্থ্যবান ধনী মানুষও। দু-চারজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষও অংশ নেন এই আয়োজনে। 

এখানে বিনামূল্যে ইফতার পেয়ে কৃতজ্ঞ দরিদ্ররা বলেন, “প্রতিদিন ইফতার কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই এখানে আসি। আগের বছরগুলোতেও আমারা বিনামূল্য এখানে ইফতার করেছি।”

এই ইফতারের আয়োজন চলে আসছে আট বছর ধরে/ঢাকা ট্রিবিউন

অনেক পথচারী ও ধনীরাও এখানে ইফতার করছেন। তারা বলেন, “হাতে সময় কম থাকায় রাস্তার পাশেই এমন আয়োজন দেখে আমরা ইফতার করতে এসেছি। আমরা সন্তুষ্ট। আয়োজকদের কাছে দাবি, গরিব ও অসহায়দের জন্য এমন আয়োজন অব্যহত থাকুক।”

ত্রিবেণীর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামিমুর রহমান বাবু ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সংগঠনের ৬০ জন সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এমন আয়োজন করা হয়েছে। এমন কাজ করতে আমাদের খুব ভালো লাগে। আগামীতে এ ধারা অব্যহত থাকবে। বিত্তবান এবং বিভিন্ন সংগঠন যদি এমন উদ্যোগ নেয় তাহলে দেশের সবাই পবিত্র রমজানে ভালো ইফতার করার সুযোগ পাবে।”

যা থাকে আয়োজনে

ইফতারে সপ্তাহে চার দিন দেওয়া হয় ছোলা, মুড়ি, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু জিলাপি, বিভিন্ন ধরনের ফল এবং শরবত। বাকি তিন দিন দেওয়া হয় খিচুড়ি ও মাংস।  প্রতিদিন একজন মাওলানা ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া পাঠ করেন। দোয়া শেষে মাগরিবের আজান হলেই সবাই মিলে তৃপ্তি নিয়ে ইফতার করেন।

ধারাবাহিকতা

এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো তারা এই ধরনের আয়োজন করেছে। শুধুমাত্র ইফতার নয়, মাসব্যাপী বিনামূল্যে কোরআন শেখানোরও উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ত্রিবেণীর সদস্য সুকুমার ভট্টাচার্য বলেন, “আট বছর ধরে রমজানে মাসে আমরা বিনামূল্যে সবার জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছি। কোভিডের কারণে মাঝে এক বছর এ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। প্রতিদিন ৩০০ রোজাদার এখানে ইফতার করেন। মূলত পথচারী এবং গরিব মানুষের জন্য এ আয়োজন। এ বছর থেকে টাঙ্গাইল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত ৩০ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্যও এখান থেকে বিনামূল্যে ইফতার দেওয়া হচ্ছে।” 

এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি। 

About

Popular Links