Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জীবিত বাবাকে ‘মৃত’ বানিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটালেন ছেলে! 

  • দানেছ আলীর বয়স ৯২, তবে সরকারি নথিতে তিনি ১৪ বছর আগে ‘মৃত’
  • অভিযুক্তের বোনেরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন
  • সরকারি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫৫ পিএম

দানেছ আলীর বয়স ৯২ বছর। কিন্তু কাগজে-কলমে তিনি মৃত। “মৃত” দেখিয়ে পাঁচ বছর আগে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম কাটা হয়। শুধু যে নামটাই কাটা হয়েছে তা নয়, তার নামে কোনো সম্পত্তিও নেই। 

অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী ইন্নছ নগর গ্রামের এই প্রবীণ।

অভিযোগ উঠেছে, দানেছ আলীর একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম তার বোনদের বঞ্চিত করে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে বাবাকে “মৃত” দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। 

চার বোন মিলে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগও করেছেন। 

নির্বাচন কমিশনের নথিতে দেখা যায়, দানেছ আলী ২০১০ সালে মারা গেছেন উল্লেখ করে ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার আবেদন করেন তার ছেলে সাইফুল। নথিতে আবেদনকারী হিসেবে সাইফুলের নাম থাকলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “ভুল সংশোধন করা হবে।”

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আট সন্তানের মধ্যে সাইফুল দানেছ আলীর একমাত্র ছেলে।

নির্বাচন কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দানেছ আলীর মৃত্যু হয়েছে। কাগজে-কলমে মৃত হওয়ায় তার সমস্ত জমি বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ডে একমাত্র ছেলে সাইফুলের নামে। 

এদিকে, ২০১১ সালে ৪৯ শতক জমি বিক্রি করেন দানেছ আলী। গত ১৭ মার্চ ওই জমি খারিজ করতে গেলে ভূমি কার্যালয় থেকে জানানো হয়, দানেছ আলী মারা গেছেন ২০১০ সালে, সব সম্পত্তি সাইফুলের নামে। উল্টো জমির ক্রেতারা “মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কীভাবে জমি কিনলেন,” এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হন। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পরদিন তার মেয়েরা লিখিত অভিযোগ দেন। 

এ অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে বাবার নাম কাটার বিষয়টি আমি জানি না। কেউ হয়ত শত্রুতাবশত আমার নাম ব্যবহার করে আবেদন করেছেন। আমার বাবা এখনো জীবিত।” 

নতুন রেকর্ডে বাবার জমি কীভাবে আপনার নামে গেল? এ প্রশ্নের জবাবে সাইফুল বলেন, “ভুলবশত আমার নাম উঠে থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”

জীবিত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা পড়া প্রসঙ্গে কথা হয় হালনাগাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্দারজানী গ্রামের হাজী আজহার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিউটি আক্তারের সঙ্গে।

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহের সময় দানেছ আলীর ছেলে সাইফুল আমাকে তার বাবার মৃত্যু সনদ দেখিয়েছেন। সাইফুল নিজেই বলেছেন, তার বাবা ২০১০ সালে মারা গেছেন। ছেলের কথা ও মৃত্যু সনদ অনুযায়ী আমি নির্বাচন অফিসে তথ্য জমা দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। নিজের ছেলে যদি মিথ্যা তথ্য ও ভুয়া কাগজ দেখায় তাহলে আমার কী করার আছে!”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, “আমাদের তালিকায় দানেছ আলী মৃত। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু কথা উঠেছে, তাই আবেদন প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছিল কি-না, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।” 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগপত্রটি এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links