Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নকলার ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তথ্য কমিশনের সুপারিশ

তথ্য দিতে অসহযোগিতা এবং তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করায় ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৮ পিএম

তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে সহযোগিতা না করে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করায় শেরপুরের নকলা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তথ্য কমিশন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) তথ্য কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় গত ৭ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম কলামে “তথ্য চেয়ে আবেদন করে দেশ রূপান্তর সাংবাদিক জেলে” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি তথ্য কমিশন বাংলাদেশ পর্যালোচনা করে স্বপ্রণোদিত অনুসন্ধান করে।

এর আগে, দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানাকে অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তথ্য কমিশনের তলবে ২ এপ্রিল হাজির হন ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন। ওই দিন সকাল ১০টায় তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হন। এরপর বেলা পৌনে ১টার সময় তিনি বেরিয়ে আসেন। এ সময় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি নিজের হাতে থাকা ফাইল দিয়ে মুখ আড়াল করে দ্রুত হেঁটে বাইরে অপেক্ষারত সিএনজিতে গিয়ে ওঠেন।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে তথ্য কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় গত ৭ মার্চ প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম কলামে “তথ্য চেয়ে আবেদন করে দেশ রূপান্তর সাংবাদিক জেলে” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি তথ্য কমিশন বাংলাদেশ পর্যালোচনা করে স্বপ্রণোদিত অনুসন্ধান করে।

মঙ্গলবার শুনানিতে নকলা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য শুনেছে কমিশন। তথ্য দিতে অসহযোগিতা এবং তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করায় ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে।

তথ্য কমিশন বাংলাদেশের প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক, তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম এবং মাসুদা ভাট্টি তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী শুনানি গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।

যা ঘটেছিল

ভুক্তভোগী সাংবাদিক রানার স্ত্রী বন্যা আক্তার বলেন, “মঙ্গলবার ছেলে শাহরিয়ার জাহানকে সঙ্গে নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে এডিপি প্রকল্পের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন জমা দেন রানা। আবেদনটি কার্যালয়ের কর্মচারী গোপনীয় সহকারী (সিএ) শীলা আক্তারের কাছে দিয়ে রিসিভড কপি (গ্রহণের অনুলিপি) চান তিনি। শীলা তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর রানা ফের অনুলিপি চাইলে শীলা বলেন, ‘ইউএনওকে ছাড়া রিসিভড কপি দেওয়া যাবে না’। এ অবস্থায় শফিউজ্জামান জেলা প্রশাসককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান।”

বন্যার ভাষ্য, “জেলা প্রশাসককে জানানোয় ইউএনও ক্ষুব্ধ হন। এ সময় ইউএনও নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নকলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও এবং সিএ শীলার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শফিউজ্জামানকে আটক করে। পরে নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ ওই কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শফিউজ্জামানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।”

ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাবাকে কারাদণ্ড দেওয়ার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মাহিন বলে, “বাবা মোবাইল ফোনে এই ভোগান্তির বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানান। এই বিষয়টি শীলা দাপ্তরিক আলোচনার কক্ষে ঢুকে ইউএনওকে জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন দাপ্তরিক আলোচনা শেষ না করেই সেই কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন।”

ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন এসেই তার বাবাকে (সাংবাদিক রানা) গালাগাল শুরু করেন জানিয়ে মাহিন বলে, “একপর্যায়ে তিনি (ইউএনও) আমাকে বলেন, ‘তুইও কি বাপের মতো চোর সাংবাদিক হবি?’ পরে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে বাবাকে আটক করে। ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. শিহাবুল আরিফ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাবাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এ সময় বাবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।”

About

Popular Links