Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইনসেপটায় অ্যাসিড লিকেজ: ছড়িয়ে পড়া গ্যাসে মানবদেহে ঝুঁকি

  • ধূমায়মান অ্যাসিড থেকে সৃষ্ট গ্যাস মানুষের শরীরে বেশি পরিমাণে গেলে ক্ষতি হবে
  • ল্যাবরেটরিগুলোতে সাধারণত ঘণীভূত বা কনসেন্ট্রেটেড অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩১ পিএম

ঢাকার ধামরাইয়ে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড লিকেজের ঘটনা ঘটেছে। ধূমায়মান এ অ্যাসিড কন্টেইনার থেকে বের হলে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়ায় (জারণ) নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। এই গ্যাস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালে অ্যাসিড লিকেজের ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, নির্গত গ্যাস ফায়ার সার্ভিস সরিয়ে ফেলেছে। আপাতত কোনো ঝুঁকি নেই।

রাত ৯টার দিকে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের একটি ভবনে নাইট্রিক অ্যাসিডের ড্রাম পড়ে গেলে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাইট্রিক অ্যাসিড উন্মুক্ত পরিবেশে ছড়ালে তা থেকে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরজু মিয়া।

তিনি বলেন, “নাইট্রিক অ্যাসিডকে দুইভাবে সংরক্ষণ করা হয়। একটি হলো ঘণীভূত (কনসেন্ট্রেটেড) এবং আরেকটি হলো মিশ্রিত বা ডাইলুটেড।”

ল্যাবরেটরিগুলোতে সাধারণত ঘণীভূত বা কনসেন্ট্রেটেড অ্যাসিডই ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আরজু মিয়া বলেন, “ধামরাইয়ে ছড়িয়ে পড়া অ্যাসিড ঘণীভূত হলে এ থেকে অনেক ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। সরাসরি কারও গায়ে লাগলে গা পুড়ে যাবে। আর যদি মিশ্রিত হলে তুলনামূলকভাবে ক্ষতি কম হবে। এক্ষেত্রেও পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেকোনো অ্যাসিডই গায়ে লাগলে চামড়া পুড়ে যেতে পারে।”

মিশ্রিত অ্যাসিড থেকে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং ঘণীভূত অ্যাসিড থেকে ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে সতর্ক করেন এ বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, “ধূমায়মান অ্যাসিড থেকে সৃষ্ট গ্যাস মানুষের শরীরে বেশি পরিমাণে গেলে ক্ষতি হবে। যাদের অ্যাজমা সমস্যা আছে তারা বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন। স্বাভাবিক মানুষেরও ক্ষতি হতে পারে। দেখতে হবে কী পরিমাণ নিঃশ্বাসে মিশেছে। পরিমাণ বেশি মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

এ বিষয়ে কথা হলে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান মো. আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, “আমার জানা আছে বিষয়টি। এটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আপাতত সমস্যা নেই। ফায়ার সার্ভিস পরিষ্কার করে ফেলেছে।”

তবে ইনসেপটার কারখানায় কী পরিমাণ অ্যাসিড পড়ে গেছে তা জানা যায়নি।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, “সেখানে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিডের দুইটি কন্টেইনার ফেটে যায়। তখন কারখানার লোকজন বালু নিক্ষেপ করে। ফায়ার সার্ভিস সেখানে গিয়েছিল। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের সহকারী অ্যাডমিন অফিসার ফাইজুর রশিদ বলেন, আমাদের এখানে জার্মানি ও বাংলাদেশের জয়েন্ট ভেঞ্চারে সুইচ বায়ো ফেক্টারি আছে। এখানে যে জিনিস বানানো হয়, সেখানে একটি এসিডের ড্রাম খুলে পড়ে ধোঁয়া হয়। ধামরাই থানা পুলিশ এসেছে। ফায়ার সার্ভিস এসে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল রানা বলেন, রাতের দিকে খবর পেয়ে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আসি। নাইট্রিক এসিড যেখানে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে সেটি পড়ে যায়। আমরা পানি দেইনি, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। আগুন লাগেনি। তবে কেমিক্যালের বিষয় ছিল। ধামরাই থেকে তিনটি ইউনিট, মানিকগঞ্জের এক ইউনিট ও ইপিজেড থেকে কেমিক্যাল টেন্ডার ইউনিটসহ মোট পাঁচ ইউনিট সেখানে আসে।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিষয়ে কথা বলতে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ফাইজুর রশিদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

About

Popular Links