Friday, June 14, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফিরতি ঈদযাত্রা: রংপুরে টিকেট নৈরাজ্য, দাম দ্বিগুণ

  • এপ্রিল মাসজুড়েই এ অবস্থা চলবে বলে জানিয়েছেন একটি পরিবহনের কর্মকর্তা
  • কাউন্টারে টিকেট নেই, কালোবাজারে আছে
  • বিপাকে চাকরিজীবীরা
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১২ পিএম

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে ঢাকায় ফেরার প্রস্ততি নিচ্ছেন কর্মজীবীরা। যাত্রা প্রস্তুতির শুরুতেই তারা পড়েছেন বিপদে। রংপুর থেকে ফিরতি ঈদযাত্রার টিকেট নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য।

বিভাগীয় নগরী ও আশেপাশের জেলা থেকে ঢাকাগামী বাসের টিকেট মিলছে না কাউন্টারে। বিশেষ করে শনি ও রবিবারে ঢাকাগামী কোনো বাসেরই টিকেট নেই বলে কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী। সোমবারে ঢাকায় ফিরে অফিস করতেই হবে, এমন যাত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্টার থেকে টিকেট নেই দাবি করা হলেও কালোবাজারি চলছে পুরোদমে। কাউন্টারের লোকজনই গোপনে নন-এসি বাসের ৮০০ টাকার টিকেট ১,৫০০ টাকায় এবং এসি বাসের ১,৫০০ টাকার টিকেট তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রংপুরে ঢাকা কোচস্ট্যান্ড ঘুরেও টিকেট বিক্রির নৈরাজ্য চোখে পড়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছেমতো দামে টিকেট বিক্রি করছেন। কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা না দিয়ে “টিকেট নেই” বলে যাত্রীদের জিম্মি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি দেখার বা প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

শুক্রবার সন্ধ্যায় একাধিক কাউন্টারে ঘুরে দেখা গেছে, শনি বা রবিবারের কোনো টিকেট নেই, সবই বিক্রি হয়ে বলে প্রচার করছেন কাউন্টারের লোকজন।

বাজছে ‘টিকেট নেই’ ভাঙা রেকর্ড

এসআর ট্রাভেলস কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেল, ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এসি কিংবা নন এসি কোনো বাসেরই টিকেট নেই। টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা দুলাল নামে একজন বলেন, “টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে । না থাকলে কোথা থেকে দেওয়া হবে?” কিন্তু ঈদের আগে বা পরে অগ্রিম টিকেট বিক্রির কোনো ঘোষণা কেন দেওয়া হলো না, এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

হানিফ কাউন্টার থেকেও একই ভাঙা রেকর্ড বাজানো হচ্ছিল।

রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে চট্টগ্রামগামী বাসের শনিবারের টিকেট নিতে এসেছিলেন শরিফুল নামে এক ব্যক্তি। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “সোমবার কাজে যোগ দিতেই হবে। সেজন্য রবিবারের টিকেট নিতে শুক্রবার এসেছিলাম। কিন্তু সোমবারের টিকেটও পাচ্ছি না। মহাবিপদে পড়েছি।”

একই কথা জানালেন লালমনিরহাট থেকে চট্টগ্রামের বাসের টিকেট কিনতে আসা লাইলী আখতার। দুই ঘণ্টা কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরেও টিকেট মিলছে না।

একই অবস্থা শ্যামলী, নাবিল, ডিপজল পরিবহনের কাউন্টারেও। 

ঢাকার যাত্রী বেলাল ও মোরশেদ জানালেন, ঈদের দুদিন আগে বুধবার তারা ঢাকা কোচস্ট্যান্ডে এসেছিলেন অগ্রিম টিকেট কিনতে। তখন কাউন্টার থেকে বলা হয়েছিল টিকেটের সমস্যা হবে না। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে কোনো কাউন্টারেই টিকেট পাননি তারা।

কালোবাজারি করছে কাউন্টারগুলোই

যাত্রীদের অভিযোগ, “কোনো কাউন্টারই টিকেট বিক্রি শেষ হওয়ার নোটিশ দেয়নি। আসলে তারা তাদের লোকজন দিয়ে কালোবাজারে দ্বিগুন মুল্যে টিকেট বিক্রি করছেন।”

কাউন্টার সংলগ্ন এলাকায় দ্বিগুণ দামে টিকেট বিক্রি করছিলেন কয়েকজন দালাল ও বাস কাউন্টারের কর্মচারী। কাছে গেলে সাংবাদিক বুঝতে পেরে দ্রুত সটকে পড়েন তারা।

ঢাকা কোচস্ট্যান্ডের এসআর ট্রাভেলস , হানিফ এন্টারপ্রাইজ , নাবিল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, আগমনীসহ সব কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে- ৭০০ টাকার নন-এসি বাসের টিকেট ৮৭০ টাকা এবং ১,৫০০ টাকার এসি টিকেট আড়াই হাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

দাম বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর আসেনি। 

তারা বলছেন, ঢাকা থেকে তেমন যাত্রী না থাকায় তারা খালি গাড়ি নিয়ে রংপুরে আসছেন। এতে লোকসান হচ্ছে। সে কারণে ভাড়া বেশি নেওয়া বিষয়টি সামনে এসেছে।

এপ্রিলজুড়েই চলবে নৈরাজ্য!

নাবিল পরিবহনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম দাবি করেন, “ঈদ উপলক্ষে খালি গাড়ি ঢাকা থেকে আসছে। ফলে লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থা এপ্রিল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে। এরপর আগের মতো স্বাভাবিক দামে টিকেট পাওয়া যাবে।”

সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রংপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা আব্দুল্লা বলেন, “কোনো নৈরাজ্য নেই। প্রকৃতপক্ষে বাসের চেয়ে যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এমন মনে হচ্ছে।”

About

Popular Links