Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউটিউব দেখে এটিএম বুথ লুটের পরিকল্পনা, বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীকে খুন

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও বুথ ভাঙার বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৯ পিএম

ঈদ-উল-ফিতরের আগের দিন রাতে রাজধানীর শাহজাদপুর মধুমতি ব্যাংকের এটিএম বুথের এক নিরাপত্তাকর্মী খুন হন। এ ঘটনার পর তদন্তে নেমে হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ। এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও বুথ ভাঙার বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর-রশীদ।

ডিবিপ্রধান জানান, ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন আরিফুল ইসলাম। একপর্যায়ে নিজের একটি কিডনি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিডনি বিক্রির জন্য রাজধানীর মিরপুর এলাকায় লিফলেট ছাড়েন। কিন্তু কিডনি বিক্রি করতে পারেননি।

এদিকে বাড়তে থাকে পাওনাদারদের চাপ। এ কারণে বেশিরভাগ সময় আত্মগোপনে থাকতেন আরিফুল। এর মধ্যেই ইউটিউব দেখে ব্যাংক বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন।

আরিফুল জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত ১০-১২ বছর ধরে বিভিন্ন অফিস ও বাসাবাড়ির আসবাবপত্র পরিবহনের কাজ করতেন। ২-৩ বছর আগে বন্ধুদের পরামর্শে এ ব্যবসার পাশাপাশি ইট, বালি ও পাথর সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসায় লোকসান হওয়ার কারণে ১৪-১৫ লাখ টাকার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদাররা তার বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে।

ডিবি জানায়, ইউটিউবের মাধ্যমে ব্যাংক বা এটিম বুথ ডাকাতির দৃশ্য দেখতে পেয়ে খুন করে হলেও এটিম বুথের টাকা লুট করার পরিকল্পনা করেন আরিফুল ইসলাম। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেট থেকে হাতুড়ি, হ্যামার, ছেনি, মিরপুর পল্লবী মিল্লাত ক্যাম্প মোড় থেকে চাপাতি, সাবল, চাকু ও মিরপুর স্টেডিয়ামের ফুটপাত থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একটি জার্সি কেনেন। এরপর নিরিবিলি এলাকা এমন এটিম বুথের অবস্থান খুঁজতে থাকেন।

ডিবিপ্রধান জানান, শাহজাদপুরে মধুমতি ব্যাংকের এটিএম বুথ নিরিবিলি মনে হওয়ায় এই এটিএম বুথ লুটের সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী ১০ এপ্রিল ভোর ৫টা ১৩ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে প্রবেশের সময় এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী হাসান মাহমুদের বাধার সম্মুখীন হওয়ায় তাকে চাপাতি দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা  করেন। এরপর হাতুড়ি, হ্যামার, ছেনি, সাবল ও চাপাতি  দিয়ে এটিম বুথ ভাঙার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে প্রায় ১০-১২ মিনিট চেষ্টা করে এটিএম বুথ ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে ব্যবহৃত হাতুড়ি, হ্যামার, ছেনি, সাবল, চাপাতি ও ব্যাগ ঘটনাস্থলে রেখে একটি ছোট চাকু নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মিরপুরগামী অছিম পরিবহনের বাসে উঠে মিরপুরের দিকে চলে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাহফুজুর রহমান রুমেল হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গুলশান থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কিনা জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, “আরিফুল ইসলামই এ ঘটনায় জড়িত। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

About

Popular Links