Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাকায় বিক্রি সনদ শনাক্তের উপায় ডিবির হাতে, বাতিলে উদ্যোগ

রিমান্ডে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা সনদ বাতিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শামসুজ্জামান

আপডেট : ১১ মে ২০২৪, ০৭:০৮ পিএম

টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া সনদ ও মার্কশিট শনাক্তের পদ্ধতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানিয়ে দিয়েছেন কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট একেএম শামসুজ্জামান। এবার সেই তথ্য বোর্ডের কাছে দিয়ে সেগুলো বাতিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

শনিবার (১১ মে) ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

সনদ বাতিলে উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘‘একেএম শামসুজ্জামান পাঁচ হাজার মানুষকে জাল সনদ দিয়েছেন। এমনকি তার সঙ্গে বোর্ডের বহু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও জড়িত ছিলেন। রিমান্ডে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা সনদ বাতিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন শামসুজ্জামান। এর মাধ্যমে সনদ শনাক্ত করে বাতিল করা যাবে। আমরা এই তথ্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাবো। পাশাপাশি বুয়েটের এক্সপার্টদের যুক্ত করে কাজটি কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘‘গত ১ এপ্রিল রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামসুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। তখন রমজান মাসের শেষের দিকে। শামসুজ্জামান আমাদের কাছে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অনেক সাংবাদিক ফোন দিয়ে ঈদের বোনাস চেয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’’

‘‘দ্বিতীয় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন কোন সাংবাদিককে কখন, কীভাবে, কত টাকা দিয়েছেন। ডিবির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যদি কোনো সংবাদিক শামসুজ্জামানের মুখোমুখি বসে কথা বলতে চান, আমরা তাকে সেই সুযোগ দেবো। অন্যায়ভাবে কেউ হয়রানির শিকার হন সেটা আমরা চাই না। পাশাপাশি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা তাদেরও বলেছি, দুদক সম্পর্কে শামসুজ্জামান যে তথ্য দিয়েছেন, চাইলে আপনারাও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। যাদের নাম বলেছেন, সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেবো,’’ যোগ করেন তিনি।

অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘‘শামসুজ্জামান মনে করেছেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের চার পাশে দালাল প্রকৃতির লোক থাকে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও দুর্নীতি দমন কমিশন অনিয়ম তদন্ত করে। তারাও যদি তার পাশে থাকে তাহলে সনদ বাণিজ্যটা বড় আকারে করতে পারবেন। সে কারণেই তিনি এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। শামসুজ্জামানের সহযোগী ফয়সালকে নিয়ে একটি আলাদা বাসায় বসে সনদ তৈরি করতেন। এ কারণে বিভিন্ন মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

গত ৩১ মার্চ মধ্যরাতে রাতে শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গেয়েন্দা পুলিশ। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

About

Popular Links