Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছাত্রী হেনস্তা: ১৬টি মৌমিতা বাস আটকে রেখেছে জাবি শিক্ষার্থীরা

চালকের সহকারী এক ছাত্রীকে ‘চলেন আপনাকে ঢাকায় নিয়ে যাই’ বলে আপত্তিকর ইঙ্গিত করে বলে অভিযোগ

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৭:১৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জ থেকে গাজীপুরের চন্দ্রাগামী মৌমিতা পরিবহনের বাসের সহকারীর বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বুধবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে আটকে রেখেছে। অভিযোগ, মঙ্গলবার সাভার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে রেডিও কলোনি এলাকায় হেনস্তার শিকার হন ওই ছাত্রী। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। 

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, “গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ব্যাংক টাউন থেকে টিউশন করে মৌমিতা বাসে ক্যাম্পাসে আসছিলাম। বাসের হেলপারকে ভাড়া দিলে বলে সে পরে ভাঙতি ফেরত দেবে বলে জানায়। এদিকে, বাস রেডিও কলোনির কাছাকাছি এলে হেলপার জানায় বাস আর সামনে যাবে না। বাসের যাত্রীরা সবাই তখন নেমে চলে যায়। আমি তখন হেলপারের কাছে টাকা ফেরত চাইলে সে বলে, ‘আপনাকে ঢাকায় নিয়ে যাই’।”

ওই ছাত্রী আরও বলেন, ‘‘তখন বাসে কেবল চালক,হেলপার এবং ওদের সঙ্গে একজন। ঢাকা নিয়ে যাবে বলেই, তারা আমাকে বাজেভাবে ইঙ্গিত দেয়। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। আর তখনই তাড়াহুড়ো করে বাস থেকে নামতে চেষ্টা করলে বাস ছেড়ে দেয়। আমি তৎক্ষণাৎ কিছু না ভেবে বাস থেকে লাফ দিই এবং হাঁটুতে প্রচুর ব্যথা পাই। এই ঘটনার পরে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত  হয়ে পড়ি। ব্যাচমেটদের বিষয়টি জানালে ওরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’’

এ ঘটনার জেরে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট এলাকায় ঢাকা থেকে আসা মৌমিতা পরিবহনের ১৬টি বাস আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বন্ধু ও প্রাণরসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, ‘‘গতকাল আমাদের বান্ধবীর সাথে একটা খারাপ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে আমরা মৌমিতা পরিবহনের বাস আটকে রেখেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার ও আশুলিয়া থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সব সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও ৬.১০ থেকে ৬.১৮ পর্যন্ত সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’’

আটকে রাখা একটি বাসের চালক মোজাম্মেল ও হেল্পার বাবলু বলেন, ‘‘সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আমাদের বাসগুলো ছাত্ররা আটক করে। ঘটনা আমরা জানতাম না। ছাত্ররা বাস আটকে আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তখন আমরা বলি, আপনারা বাস আটকান- সমস্যা নাই। বাস মালিকের সম্পত্তি, কিন্তু ফোন তো আমাদের পার্সোনাল জিনিস।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মনির উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘‘আমরা আশুলিয়া থানার পুলিশসহ ছাত্রদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু সিসিটিভি দেখে  ঘটনা শনাক্ত করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা খুব সিরিয়াসলি বিষয়টা দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে মামলা করবেন। ঘটনা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাসগুলো এখানেই থাকবে।’’

তবে ড্রাইভারদের মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘উত্তেজিত অবস্থায় ছাত্ররা এ কাজ করেছে। পরে আমি উপস্থিত হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে মোবাইলগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.আলমগীর কবির বলেন, ‘‘ছাত্ররা ও আশুলিয়া থানার পুলিশসহ আমরা ঘটনা স্থলে গিয়েছি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা কিছু শনাক্ত করতে পারি নাই। আমরা বাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি দ্রুত ওই বাসের হেল্পার ও চালককে শনাক্ত করে আমাদের জানাতে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পুলিশও চেষ্টা করছে।’’

About

Popular Links