Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাদারীপুরে বাস্তবেই ঘটতে চলেছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমার হৃদয়বিদারক দৃশ্য

বিদ্যালয়ের শৌচাগারে ৬ ঘণ্টা আটকে ছিল ছয় বছরের এক শিশু

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৩৮ পিএম

স্কুলের টয়লেটে আটকে পড়া এক শিশুর হৃদয়বিদারক পরিণতি নিয়ে নির্মাণ করা শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘‘ছুটির ঘণ্টা’’ কাঁদিয়েছিল অনেককেই। এবার বাস্তবে এমনই এক ঘটনার জন্ম হতে যাচ্ছিল মাদারীপুরে। যদিও শেষ পর্যন্ত বেদনাদায়ক কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৯ নং পাঁচখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে। 

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের শৌচাগারে যায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন (৬)। শ্রেণিকক্ষে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা থাকার কারণে সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। ছুটির ঘণ্টা পড়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে থাকা সবাই বাড়িতে চলে যায়। বিদ্যালয়ের দপ্তরি শ্রেণিকক্ষ ও শৌচাগারের দরজা তালাবদ্ধ করে চলে যান। এতে শৌচাগারের ভেতর আটকা পড়ে প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী।

একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। তবে তার ডাক কেউ শুনতে পায়নি। দুপুর পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় তাকে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পথচারী শিশুটির কান্নাকাটি শুনে কাছে ছুটে যান। এ সময় শৌচাগারের ভেতর শিশুটি আটকা পড়েছে বুঝতে পেরে তালা ভেঙে রাফিনকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাফিন একই এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন,  ‘‘ওই শিশু মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিশুটির বাসায় গিয়ে কথা বলেছে। এ ঘটনায় কেউ ইচ্ছাকৃত করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, ‘‘স্কুল ছুটির পরে সব ক্লাসরুম, শৌচাগার ভেতরে চেক করে তারপর বিদ্যালয় তালা দেবেন দপ্তরি। কিন্তু সেটা না করে তালা দেওয়ার ফলে ওই স্কুলের শৌচাগারে এক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। বিষয়টি আমরা জেনেছি। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের সঙ্গে এমন ঘটনা কাম্য নয়।’’

মাদারীপুর জেলা শিশু একাডেমির কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ ঘটনার পরিণতি ১৯৮০ সালের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ছুটির ঘণ্টার মতো হতে পারত। বিষয়টি দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক। এ ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি কেউই এড়াতে পারেন না। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলা হওয়া উচিত।’’

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালে নির্মিত সাড়া জাগানো “ছুটির ঘণ্টা” সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয় এমন এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিয়ে, যে স্কুলের টয়লেটে আটকা পড়ে মুক্তির দিন গুনছিল। কিন্তু লম্বা ছুটির কারণে স্কুলটির ভবনসহ ফটকে তালা দেওয়া ছিল। কেউ তার চিৎকার শুনতে পায়নি। টয়লেটেই মৃত্যু হয় তার। সিনেমাটি ছিল বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি।

About

Popular Links