Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাকরিচ্যুত করায় মসজিদের ফ্যান-মাইক-আইপিএস খুলে নিলেন ইমাম

মুসল্লিরা নিজেদের টাকা দিয়ে ফ্যান, মাইক ও আইপিএস কিনেছিলেন তাই খুলে নেওয়া হয়েছে দাবি ইমামের অনুসারীদের

আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ০৭:২২ পিএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় এক ইমামকে চাকরিচ্যুত করার জেরে মসজিদ থেকে ফ্যান, মাইক ও আইপিএস খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৮ মে) বামরাইল ইউনিয়নের হস্তীশুণ্ড গ্রামের মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রবিবার উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।

স্থানীয়রা জানান, ৫০-৬০ বছর আগে ওয়াকফ সম্পত্তিতে ওই মসজিদটি গড়ে ওঠে। সেখানে আধপাকা ভবন নির্মাণ করে নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। ২০০৯ সালে কুয়েতি একটি সংস্থা সেখানে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। এরপর পুরনো মসজিদ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন মসজিদে সবাই নামাজ আদায় করেন। ওই মসজিদে ৩৫ বছর ধরে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আবদুল হাই। গত তিন বছর ধরে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মাহাবুব উদ্দিন মোল্লা। তবে গত এক বছর ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও ইমাম বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সভাপতি ও ইমামের বিবাদে বিভক্ত হয়ে পড়েন এলাকার মুসল্লিরাও। সম্প্রতি কোনো বৈঠক না করে ইমামকে চাকরিচ্যুত করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জেরে ইমামের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইয়ামিন সরদার ও সাইফুল শেখ নামে দুই ব্যক্তি শনিবার মসজিদের ফ্যান, মাইক ও আইপিএস খুলে নিয়ে পাশের পরিত্যক্ত পুরোনো মসজিদ ভবনে স্থাপন করে সেখানে নামাজ আদায় করেন।

যদিও ওই দুই ব্যক্তির ভাষ্য, মসজিদের সভাপতি স্বেচ্ছাচারিতা করে মসজিদ পরিচালনা করছেন। একক সিদ্ধান্তে মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করে বিতাড়িত করেছেন তিনি। মুসল্লিরা নিজেদের টাকা দিয়ে ফ্যান, মাইক ও আইপিএস কিনেছিলেন। যেহেতু নতুন ভবনে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছেন তারা, তাই সেগুলো খুলে নিয়ে এসেছেন।

এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘‘ঝাড়ফুঁক ও তাবিজকবচের মাধ্যমে নারী-পুরুষের চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা ও প্রতারণা করছেন মসজিদের ইমাম। বারবার তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাকে ইমাম পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’’

এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাম আবদুল হাই বলেন, ‘‘সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।’’

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ডাকুয়া বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও থানার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহীদুজ্জামান বলেন, ‘‘মসজিদের মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মেহেদী হাসান বাদী হয়ে আজ থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

About

Popular Links