Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুষ্টিয়ার লোকালয়ে পাওয়া গন্ধগোকুলটিকে বাঁচানো গেল না

প্রাণীটিকে ধরে বাঁশে বেঁধে রাখা হয়েছিল। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চিকিৎসা দিয়েও বাঁচাতে পারেনি

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ১২:১২ পিএম

কুষ্টিয়ার মিরপুরে আহত অবস্থায় উদ্ধার গন্ধগোকুলটি মারা গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিরপুর উপজেলা সহকারী বন কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের সিংপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় বিপন্ন তালিকাভুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার থেকে সেটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। 

উদ্ধারের পর থেকে গন্ধগোকুল প্রাণীটি উপজেলা বন কর্মকর্তার হেফাজতে ছিল। 

মিরপুর উপজেলা সহকারী বন কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, “সোমবার গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধারের পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে প্রাণীটির পেছনের দুই পা প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হাওয়ায় সে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসে দেখি মারা গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “কিছুক্ষণের মধ্যেই গন্ধগোকুলটি ময়নাতদন্তের জন্য ভেড়ামারা উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হবে।”

রবিবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় সিংপুর গ্রামের উসমান গণি নামে এক কৃষকের লিচু বাগানে গন্ধগোকুলটিকে আটক করে বাঁশে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয় এক শিক্ষক প্রাণীটিকে উদ্ধার করে উপজেলা বন কর্মকর্তার হেফাজতে দেন।

জানা গেছে, স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রাণী গন্ধগোকুল বর্তমানে সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। পুরোনো গাছ, বন-জঙ্গল কমে যাওয়ায় দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিবেচনায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় উঠে এসেছে এই প্রাণীটি। 
বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

গন্ধগোকুল নিশাচর। খাটাশের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এরাই মানুষের বেশি কাছাকাছি থাকে। দিনের বেলা বড় কোনো গাছের ভূমি সমান্তরাল ডালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে, লেজটি ঝুলে থাকে নিচের দিকে। মূলত ফলখেকো হলেও কীটপতঙ্গ, শামুক, ডিম, বাচ্চা, পাখি, ছোট প্রাণী, তাল-খেজুরের রসও খায়। এরা ইঁদুর ও ফল-ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। গন্ধগোকুলের ধূসর রঙের এই প্রাণীটির অন্ধকারে অন্য প্রাণীর গায়ের গন্ধ শুঁকে চিনতে পারার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রায় পোলাও চালের মতো তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে থাকে।

About

Popular Links