Monday, June 17, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘রিমাল’

ঘূর্ণিঝড়টি কখন এবং কোন অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে সেটিও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে সেটি “প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে” রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা। এই নিম্নচাপ যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তবে এর নাম হবে “রিমাল”। ওমানের দেওয়া এই নামটির অর্থ “বালু”।

আগামী রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় এ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেছেন, “এ সময় উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।”

জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনার ব্যাপারে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “রবিবার সন্ধ্যায় ভাটা চলবে। তাই এ সময় আঘাত হানলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা কম। তবে রাত ১২টা বা এর পরে আঘাত হানলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আছে।”

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে- এটি শুক্রবার সকালেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ জন্য দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেতও দেখতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার যানগুলোকে গভীর সমুদ্র না যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, “রিমাল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।”

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে “ঘূর্ণিঝড়” বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে “প্রবল ঘূর্ণিঝড়” বলা হয়।

আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন সেটিকে “অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়” বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তা হয় “সুপার সাইক্লোন”।

আবহাওয়াবিদ আজিজুর রহমান বলেন, “খুলনা থেকে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার মাঝামাঝি স্থানে এটি আঘাত হানতে পারে। অপেক্ষাকৃত বেশি এলাকা ধরে ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি থাকতে পারে। সমুদ্র উপকূলের সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।”

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগের বা সামনের অংশের প্রভাব রবিবার সকাল থেকেই বোঝা যাবে বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান।

তিনি বলেন, “শনিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়বে। ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।”

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

নিম্নচাপকেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিম্নচাপকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর মাঝারি ধরনের উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

About

Popular Links