Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনায় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বহু এলাকা, ভেসে গেছে মাছের ঘের

সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজ করছেন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০১:১০ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার ৩৬ স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে বহু এলাকা। ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি। ভেসে গেছে মাছের ঘের। সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজ করছেন।

জানা গেছে, দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী ফকিরকোনা, ঝুলন্তপাড়া এবং পণ্ডিতচন্দ্র স্কুল সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজার, কামিনীবাসিয়ায় বাঁধ ভাঙছে। পাইকগাছা উপজেলার লস্কর গ্রাম, বাইনতলা ওয়াপদা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন পোল্ডারে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রামে লবণাক্ত পানি ঢুকছে। চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে গেছে। গড়ইখালীর কুমখালীর ক্ষুদখালী, লস্করের বাইনতলা, লতা, দেলুটি, হরিঢালী, লস্কর রাড়ুলী, কপিলমুনি, সোলাদানার কয়েকটি পয়েন্টে বাঁধ উপচে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকছে।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল হুসাইন খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঝড়ে দাকোপের সাড়ে ১০ হাজার ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ১৬,৯০৫টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। পানখালী, তিলডাঙ্গা। সুতারখালী এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

খুলনা জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, “দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা, বটবুনিয়া, কামিনিবাসিয়া, তেতুলতলা, পানখালী, লক্ষ্মীখোলা, গোনা মোল্লাপাড়া, কালিবাড়ি এলাকায় ভাঙন ধরেছে।”

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিএম তরিক উজ জামান বলেন, “কয়রায় এখনও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। বাইরে বের হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি চলছে। দশহালিয়া, নয়ানি এলাকায় ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ বন্ধে তাৎক্ষণিক মেরামত কাজ করা হয়েছে।”

নদীর জোয়ারে পানিতে বেড়িবাঁধ উপচে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। শত শত পুকুর ও মাছের ঘের ডুবে গেছে/ঢাকা ট্রিবিউন

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে পাইকগাছা উপজেলার ৫৬টি ভোটকেন্দ্র আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

তিনি জানান, পাইকগাছা উপজেলায় ওয়াপদা বাঁধের সোলাদানা ইউনিয়নে চারটি পয়েন্ট, লাম্বর ইউনিয়নে দুটি, দেলুটি ইউনিয়নে আটটি, গড়ইখালী ইয়ানিয়নে দুটি, রাছুলী ইউনিয়নে একটি, হরিঢালী ইউনিয়নে একটি, কপিলমুনি ইউনিয়নে একটি, গদাইপুর ইউনিয়নে একটি ও পাইকগাছা পৌরসভায় একটিসহ মোট ২১টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙেছে।”

তিনি বলেন, “প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে সোলাদানা ইউনিয়ন, দেলুটি ইউনিয়ন, রাফুলী ইউনিয়ন, লতা ইউনিয়ন, লস্কর ইউনিয়ন, গড়ইখালী ইউনিয়ন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সোলাদানা ইউনিয়ন, দেলুটি ইউনিয়ন, রাফুলী ইউনিয়ন, লতা ইউনিয়ন, লঞ্চর ইউনিয়ন, গড়ইখালী ইউনিয়নসহ মোট ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ।”

তিনি আরও জানান, ঝড়-বাতাস এবং ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উপজেলায় সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। যাতায়াতের রাস্তায় একাধিক স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় রাস্তা ভেঙে গেছে।

About

Popular Links