Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ১৬৮ কোটি টাকার মাছ, নিঃস্ব খুলনার চাষিরা

জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে ৭,২৮৩ হেক্টর জমির ৫,৫৭৫টি ঘের ও ৩০৭ হেক্টর জমির ৩,৩০০টি পুকুর

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ০২:৩৭ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার প্রায় ৮,৮৭৫ পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। ফলে দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার মৎস্যজীবীদের অন্তত ১৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, রিমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় থেকে সাত ফুট উচ্চতার জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। এর ফলে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধের পাঁচটি স্থান ভেঙে যায়। তবে পাইকগাছা উপজেলায় বাঁধ না ভাঙলেও বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্যঘের।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে ৭,২৮৩ হেক্টর জমির ৫,৫৭৫টি মৎস্যঘের ও ৩০৭ হেক্টর জমির ৩,৩০০টি পুকুর। এতে ভেসে গেছে ১,৮৩৫ মেট্রিকটন সাদা মাছ ও ১,৭২৪ মেট্রিকটন চিংড়ি। সবমিলিয়ে ১৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) রাত ৯টার দিকে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল হুসেইন খান বলেন, “জলোচ্ছ্বাসে ১৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ চাষি দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার।”

বাঁধ মেরামতের চেষ্টায় স্থানীয়রা/ঢাকা ট্রিবিউন

পাইকগাছা উপজেলার সোনাদানা এলাকার মৎস্যঘেরের মালিক আমিনুর সরদার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার ঘেরে ১২-১৫ লাখ টাকার চিংড়ি মাছ ছিল। রবিবার রাতে জোয়ারের পানিতে সব ভেসে গেছে। আমার একার নয়, আশপাশের সব ঘের ও পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।”

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্তত ৭৭ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৫৬ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বটিয়াঘাটায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। উপকূলের অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম বলেন, “আমরা সার্বিক সহায়তা করতে প্রস্তুত আছি। উপজেলাগুলোতে নগদ টাকা পাঠানো হবে।”

খুলনা পওর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নির্বাহী মো. আশরাফুল আলম বলেন, “দাকোপের খলিশা, পানখালী, বটবুনিয়া ও কামিনিবাসিয়া এবং কয়রার দশালিয়া বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এই পাঁচটি জায়গা মিলে ১৫০ মিটারের মতো বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা ও পাইকগাছায় আরও ৬০টা পয়েন্টে পানি উপচে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাইকগাছায় অনেক জায়গায় ওভার ফ্লো হয়েছে। সবমিলিয়ে ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও জোরে বাতাস হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।”

About

Popular Links