Tuesday, June 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঝড়ের রেশ না কাটতেই তাপমাত্রা ‘ফিলস লাইক ফর্টি প্লাস’

তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি

আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ০৯:৫৫ এএম

এ বছর পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়েছে গোটা দেশ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গরম কিছুটা কমলে দ্বিতীয় সপ্তাহে তা আবার বাড়তে শুরু করে। মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে তা আরও প্রখর রুপ ধারণ করে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছিলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ছাড়া তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই। সে অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নেমেছিল। তবে দুদিন না যেতেই ফের পড়তে শুরু করেছে তীব্র গরম।

বুধবার (২৯) মে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়তে শুরু করেছে গরম। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় জনজীবনে বিরাজ করছে অস্বস্তি।

সাধারণত বড় ধরনের বৃষ্টির পর কয়েকদিন আবহওয়া শীতল থাকলেও এবার কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় মূল তাপমাত্রার তুলনায় অনুভূত তাপমাত্রার পার্থক্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোগান্তি বেশি হচ্ছে মানুষের। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে।

এদিকে, বুধবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখার সময় গুগলে সার্চ করলে ঢাকার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখালেও অনুভূত তামাত্রা বা ফিলস লাইক তাপমাত্রা ছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে সকাল থেকে রাজধানীতে স্কুলগামী ও অফিসগামী তীব্র গরমে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অস্বস্তিতে রয়েছেন শ্রমজীবী মানুষেরাও।

প্রসঙ্গত, গুগলে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা জানতে চাইলে সবার ওপরে সেটি দেখায়। তবে তাপমাত্রার ঠিক নিচে ছোট করে লেখা থাকে “ফিলস লাইক”।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, “ফিলস লাইক” তাপমাত্রা হলো নির্দিষ্ট এলাকার অনুভূত তাপমাত্রার পরিমাপ। অর্থাৎ কোনো এলাকার তাপমাত্রা যেমনই হোক না কেন, পারিপার্শ্বিক আরও বেশকিছু প্রভাবকের কারণে মানব শরীরে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হতে পারে; এই অনুভূত তাপমাত্রাকেই বলা হয় ফিলস লাইক।

আরেকটু খোলাসা করে বললে, পৃথিবীতে সূর্য রশ্মি আসার পর যে তাপমাত্রাটা থাকে, সেটাই ভূপৃষ্ঠের মূল তাপমাত্রা। আর এই তাপমাত্রা যখন ভূমি থেকে বিকরিত হয়ে মানব শরীরে অনুভূত হয়, সেটাই “ফিলস লাইক” বা অনুভূত তাপমাত্রা।

ফিলস লাইক তাপমাত্রাকে বলা হয় হিট ইনডেক্স বা তাপ সূচক। কোনো এলাকার সম্ভাব্য তাপমাত্রার পূর্বাভাস, ওই এলাকার আর্দ্রতা ও হাওয়ার গতিবেগ মেপে ফিলস লাইক নির্ধারণ করা হয়। ভূমি থেকে পাঁচ ফুট উপরের হাওয়ার গতি মেপে ফিলস লাইক পরিমাপ করা হয়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম বেশি হয়। আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে ঘাম বাষ্পের সঙ্গে মিশে যেতে সময় বেশি লাগে। শরীর ঠান্ডা হতে না পারায় গরম বেশি অনুভূত হয়। আবার বাতাসের উষ্ণতা যা-ই থাক না কেন, প্রবাহ বেশি থাকলে, অর্থাৎ হাওয়া বইলে তাপমাত্রা কম অনুভূত হয়। সেক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ে গরমের অনুভূতির ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব এলাকায় যানবাহন, কলকারখানা এবং ভবনের পরিমান বেশি সেখানে মূল তাপমাত্রার চেয়ে অনুভূত তাপমাত্রা বেশি থাকে। আর যেসব এলাকায় গাছপালা ও জলাধার বেশি, সেসব এলাকায় মূল তাপমাত্রা ও অনুভূত তাপমাত্রার ব্যবধান কম।

গরমের সময়ে এই ফিলস লাইক বা অনুভূত তাপমাত্রা যেমন বেশি থাকে, শীতের সময় ঠিক এর বিপরীত। অর্থাৎ, শীতের সময় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও তার “ফিলস লাইক” ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসও হতে পারে। অর্থাৎ, ওই এলাকার মানুষ ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো ঠান্ডা অনুভব করছেন।

About

Popular Links