Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ২০ গ্রাম, তিনজনের মৃত্যু

ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে

আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ০৮:৩০ পিএম

১২ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে ও ভারী বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (১ জুন) ভোর ৫টার দিকে এই ঝড় হয়। এলাকাবাসী বলছেন, ১২ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল এই ঝড়।

ঝড়ে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছপালা। শতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কয়েকটি সড়কে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ঝড়ের কবলে পড়ে মৃতদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। এছাড়া আড়াই বছরের এক শিশু জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা গেছে।

নিহতরা হলেন বালিয়াডাঙ্গীর শালডাঙ্গা গ্রামের ফরিদা বেগম (৪০) ও জাহেদা বেগম (৫০)। একই উপজেলার লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের আড়াই বছরের ছেলে নাঈয়ুম জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা গেছে।

নিহত ফরিদা বেগমের স্বামী পইনুল ইসলাম জানান, তিনি ফজরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। ঝড়ের সময় বাড়িতে এসে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে বাতাসে উড়ে বারান্দায় এসে পড়া টিন ও ছাউনি সরিয়ে দেখেন নিচে চাপা পড়ে আছে তার স্ত্রী।

একই গ্রামের জাহেদা ঝড়ের সময় বারান্দায় বসে ছিলেন। এসময় তিনি মারা যান। জাহেদার স্বামী দবিরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঝড়ের সময় ভয়ে স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করছেন তারা।

আধারদিঘী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম  জানান, বাজারে শতবর্ষী কিছু আমগাছ ছিল দীর্ঘদিনের। ঝড়ের কারণে সেই গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়েছে দোকানগুলোর টিনের ছাউনির ওপর। এতে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে ৪০টির বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে এবং ভেঙে গেছে। এছাড়াও অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। বালিয়াডাঙ্গী বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ। সকাল থেকে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, “ঝড়ে মরিচ, বোরো ধান, পটলসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিসংখ্যান সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।”

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফছানা কাওছার বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান এবং আমাদের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ করছে।”

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, “ঝড়ের আগে ও পরে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে।”

About

Popular Links