Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে গ্রাহকের ১৪৯ ভরি স্বর্ণ গায়েব

খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা

আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ০৩:২০ পিএম

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চকবাজার শাখার লকারে রাখা এক গ্রাহকের ১৪৯ ভরি স্বর্ণের গয়না পাওয়া যাচ্ছে না। ওই গ্রাহকের নাম রোকেয়া আক্তার বারী। স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এদিকে, ঘটনাটি ২৯ মে দুপুরে ঘটলেও এখন পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা গ্রাহক কেউই থানায় অভিযোগ দেননি।

পুলিশের একটু সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, রোকেয়া আক্তার বারী লকারে প্রায় ১৪৯ ভরি স্বর্ণের গহনা রেখেছিলেন। ২৯ মে লকার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে তিনি লকার রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় দেখতে পান যে, তার লকারটি খোলা এবং সেখানে কোনো গহনা নেই।

এ বিষয়ে রোকেয়া বলেন, “১৭ বছর ধরে আমি ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখায় লকার ব্যবহার এবং অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে আসছি। ২৯ মে দুপুর দেড়টার দিকে কিছু স্বর্ণালংকার আনতে ব্যাংকে যাই। সেখানে লকারের দায়িত্বে থাকা অফিসারকে লকার খুলে দিতে অনুরোধ করি। কিন্তু লকার কক্ষের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই অফিসার আমার লকার খোলা দেখতে পান। এমন ঘটনা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি।”

রোকেয়া বলেন, “লকারে চুড়ি, জড়োয়া সেট, গলার সেট, গলার চেইন, আংটি, কানের দুলসহ ১৪৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। লকার খোলার পর দেখা যায়, সেখানে মাত্র ১০ থেকে ১১ ভরি স্বর্ণ অবশিষ্ট আছে। খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা।”

রোকেয়া বারীর ছেলে ডাক্তার রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, “আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লকার রুম দেখে গেছেন। বুধবার রাতেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওসি আমাদেরকে মামলা করতে বলেছেন। আমরা পরিবারের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংক কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, তারা ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত দল গঠন করেছেন। সাত দিনের মধ্যে সঠিক ঘটনা উদঘাটন করবেন।”

চকবাজার থাবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর বলেন, “আমি নিজেই ব্যাংকে গিয়েছিলাম। লকার খোলা দেখতে পাই। আমি ভুক্তভোগী গ্রাহককে মামলা করতে বলেছি। তবে ভুক্তভোগী এখনও কোনো মামলা করেননি।”

এ বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপক শফিউল মাওলার ব্যক্তিগত মুঠোফোন এবং হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল ও মেসেজ  করার পরও তিনি সাড়া দেননি।

ব্যাংকটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই ভল্টের বিমা করা আছে।

ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আকিজ উদ্দিন বলেন, “গ্রাহকের কাছে মূল চাবি আছে, আমাদের কাছে নেই। এক মাস আগে তিনি ব্যাংকে এসে লকারটি পরীক্ষা করে দেখে গিয়েছেন। আমাদের কাছে কোনো গ্রাহকের লকারের সঞ্চয় সম্পর্কে তথ্য থাকে না।”

About

Popular Links