Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জবি-সূত্রাপুর ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪

  • দায় নিতে নারাজ উভয়পক্ষ
  • পুলিশ বলছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা
আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম

পূর্বশত্রুতার জেরে ঢাকার সূত্রাপুর থানা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১ জুন) রাত ১০টা ও ১২টায় সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে দুই দফায় নিজেদের সংঘর্ষে জড়ায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সূত্রাপুর থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে জগন্নাথ শাখার নেতা ইব্রাহিম ফরাজির অনুসারী হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায়। রড, লাঠি, ইটের আঘাতে তারা মারাত্মক আহত হন।

তাদের আহতাবস্থায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, প্রতিপক্ষের কিছু কর্মীও হাসপাতালে যান। এরই মধ্যে রড, লাঠি, লোহার পাইপ ইত্যাদি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন জবি শাখা ছাত্রলীগের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী। তারা প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে আহত হন সূত্রাপুর থানা ছাত্রলীগের দুই কর্মী। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এরপর জবি ছাত্রলীগ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় প্রতিপক্ষের খোঁজে সশস্ত্র শোডাউন দেয়। এতে নেতৃত্ব দেন জবি ছাত্রলীগের সিফাত, পাভেল, ইবনে সিনা, রহিম, অপু ও রাজা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

খবর পেয়ে রাতেই ক্যাম্পাসে যান জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম আক্তার হোসেন।

আহত জবি ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মিরাজের ভাষ্য, আমার বাড়ি পুরান ঢাকায়। সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে ৫-৬ জন বন্ধুকে নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সময় আমাদের ওপর হামলা চালায় ৭-৮ জন। বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে গেলে আমি এবং সাব্বির তাদের রোষানলে পড়ি। আহতাবস্থায় আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে ফরাজী গ্রুপের বড় ভাইয়েরা হাসপাতালে আসেন। তখন হাসপাতালে থাকা প্রতিপক্ষ গ্রুপের সিয়াম ও ফয়সালকে মারধর করা হয়।

তাকে মারধরে অভিযুক্তরা সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সূত্রাপুর থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানান মিরাজ। তারা সূত্রাপুর থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আজিমের অনুসারী।

এ বিষয়ে আজিম বলেন, জবি ছাত্রলীগের ৩০-৪০ জন হামলায় সিয়াম ও ফয়সাল গুরুতর আহত হয়। এটা কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। এটা বন্ধুদের ভেতরকার বিবাদ।

সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত নয়। ঘটনা কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। সিয়াম ও ফয়সাল আমাদের কলেজের কেউ নয়।

জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, গতকালের ঘটনায় জবি ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আহত জবি ছাত্ররা কেউ ছাত্রলীগের নন।

সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ফরাজী বলেন, এ ঘটনায় জবি ছাত্রলীগ জড়িত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের কেউ কেউ আহতও হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এটা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নয়।

এ বিষয়ে জবি প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো সহিংসতা হয়নি। শুনেছি এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র জড়িত। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সমর্থন করে না। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

About

Popular Links