Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশে ১১ হাজার কোটি টাকার চোরাই হীরার বাজার

বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০৫:৪৪ এএম

দেশের হীরার বাজার প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার, যার পুরোটাই চোরাচালান নির্ভর। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সংকটে পড়ছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে চিরুনি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (৩ জুন) রাজধানীতে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান বন্ধে করণীয় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এসব তথ্য ও দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, বাজুস কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসান, সহসভাপতি মাসুদুর রহমান, কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, ইকবাল উদ্দিন, আলী হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অবৈধপথে হীরা আমদানির কারণে শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে জানিয়ে বাজুস নেতা রিপনুল হাসান জানান, “হীরা আমদানিতে শুল্ককর অনেক বেশি। বন্ড সুবিধা ছাড়া অমসৃণ হীরা আমদানিতে কর ৮৯ শতাংশ। মসৃণ হীরা আমদানিতে কর প্রায় ১৫১ শতাংশ। এই শুল্ককর ফাঁকি দিতেই মূলত অবৈধপথে বিপুল পরিমাণে হীরা আসছে। দেশের হীরার বাজার প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এই হীরার বাজার পুরোটাই চোরাচালান নির্ভর থাকার কারণে গত ১৯ বছরে এই মূল্যবান রত্ন আমদানিতে সরকার মাত্র ১২ কোটি টাকার রাজস্ব পেয়েছে, যা খুবই সামান্য।” 

বাজুসের হিসাবে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০টি জেলার সীমান্ত অবস্থিত। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা এই ৬ জেলা স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। ভারতে পাচার হওয়া স্বর্ণ বড় একটি অংশ এ সব জেলার সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়।

বাজুস বলছে, “প্রতিদিন সারা দেশের জল, স্থল ও আকাশপথে কমপক্ষে ২৫০ কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণর অলংকার, স্বর্ণর বার ও হীরার অলংকার চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসছে। বছর শেষে এর হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার স্বর্ণ  ও ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার হীরা অবৈধভাবে দেশে আসছে। এই পুরো টাকাটাই হুন্ডির মাধ্যমে সোনা ও হীরা চোরাকারবারিরা বিদেশে পাচার করছে।” 

ডলারের মাত্রাতিরিক্ত দাম ও সংকট এবং বেপরোয়া চোরাচালানের ফলে বহুমুখী সংকটে পড়েছে দেশের জুয়েলারি শিল্প, এই তথ্য জানিয়ে রিপনুল হাসান বলেন, “দেশে খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের দাম এখন ১২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে চোরাকারবারিদের দেশি-বিদেশি সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতিনিয়ত স্থানীয় পোদ্দার বা বুলিয়ন বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হচ্ছে। পোদ্দারদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সোনার পাইকারি বাজার। পোদ্দারদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সিন্ডিকেটের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে। ” 

About

Popular Links