Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভালো দাম পেলেই কুমারখালীর ‘মার্শাল’ ও ‘বুলেট’কে বিক্রি করবেন মালিকরা

হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের দীর্ঘকায় ষাঁড়দুটিকে দেখতে খামারে প্রতিদিন ভিড় জমে বহু মানুষের

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার একটি ডেইরি ফার্মে “মার্শাল” ও “বুলেট” নামে দুটি ষাঁড়কে ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে হাটে তোলা হবে। ষাঁড় দুটির একটির ওজন প্রায় ১,৫০০ কেজি এবং অন্যটির ৯০০ কেজি। 

এদের মধ্যে মার্শাল নামে ষাঁড়টির জন্ম উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর ঘোষপাড়ার “রূপাই ডেইরি ফার্মে”। তারাই পশুটিকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। 

ডেইরি ফার্মের কর্মী মঈদুল ইসলাম বলেন, মার্শাল নামের ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১,৫৫০ কেজি। সাদা-কালো রঙের হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকৃতির গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১০ ফুট ও উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। সাড়ে চার বছর বয়সী গরুটি জন্ম থেকেই হৃষ্ট-পুষ্ট হওয়ায় দৃষ্টি কাড়ে খামারির। তখন থেকেই তার প্রতি ছিল বিশেষ যত্ন। গড়নে বিশালাকৃতির মার্শাল স্বভাবে বেশ শান্তশিষ্ট।

রূপাই ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুশান্ত কুমার রায় বলেন, “গো খাদ্যের চড়া মূল্যের কারণে মার্শালের পেছনে বছরে গড়ে খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকার বেশি। এ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।” 

ষাঁড়টিকে ১৩ লাখ টাকায় বিক্রির ইচ্ছা রয়েছে তার।

সুশান্ত কুমারের ফার্মে ছোট-বড় ১৫৫টি গরু রয়েছে। অন্য গরুদের মতো প্রাকৃতিক খাবার খেয়েই মার্শাল এত বড় হয়েছে। কাঁচা ঘাস, খড় ছাড়াও প্রতিদিন তাকে ১৩ থেকে ১৬ কেজি দানাদার খাবার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। 

গরু দেখভালের দায়িত্বে থাকা মঈদুল বলেন, হৃষ্টপুষ্ট করতে কোনো ধরনের ফিড বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করায় মার্শাল তীব্র গরমেও ফ্যান ছাড়াই স্বাভাবিক থাকতে পারে। দিনে দুইবার গোসল করানো হয় তাকে।

অন্যদিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বারাদি গ্রামের ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের “বুলেট” নামে ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৯০০কেজি। সাদা-কালো রঙের এই গরুটিও হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের। তার দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। 

বুলেটের মালিক মনিরুজ্জামান বলেন, “নিতান্তই শখের বশে সন্তানের মতো যত্নে চার বছর ধরে বড় করেছি বুলেটকে। খাবারের দাম অনেক বেশি তাই আর পালতে পারছি না। সন্তানের মতোই ওর প্রতি মায়া পড়ে গেছে। ওকে বিক্রি করে দেব এ কথা ভাবলে চোখের জল ধরে রাখতে পারি না।”

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় ষাঁড় দুটির বেশ নাম পড়ে গেছে। তাই মার্শাল, বুলেটকে দেখতে প্রতিদিন অনেকেই আসছেন। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুমারখালীর ৩,৮০০টি খামারে গরু, মহিষ, ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৪ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। যা উপজেলার চাহিদা থেকে বেশি। উদ্বৃত্ত পশুগুলো চলে যাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। গরু মোটাতাজাকরণে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রণোদনা দিয়ে খামারিদের সহযোগিতা করছে সরকার। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”

About

Popular Links