Tuesday, June 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টানা বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন সিলেট নগরী

টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সিলেট মহানগরীর বেশিরভাগ এলাকার রাস্তাঘাট, দোকানপাট, বাসাবড়ি ও হাসপাতাল

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১১:০৮ এএম

রাতের ভারি বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে নগরীর অনেক বাসা-বাড়িতে। শনিবার (৮ জুন) রাত ৯টা থেকে শুরু হয় ভারী বর্ষণ, যা চলে রাত ১টা পর্যন্ত। এতে নগরের উপশহর, তেররতন, বাগবাড়ি, পশ্চিম কাজলশাহ, দরগাহ মহল্লা, জালালাবাদ, তালতলা, জামতলা, মিরের ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা এয়। দেখা দেয় চরম জনদুর্ভোগ।

বাগবাড়ি পশ্চিম কাজলশাহ এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আহমদ ইয়াসিন খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “রাতের বৃষ্টিতে আমার বাসায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এতে নষ্ট হয়ে গেছে বাসার অনেক জিনিসপত্র। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে বাসায় তিন দফা পানি উঠল।”

তিনি জানান, রাত ১২টায় চৌহাট্টা থেকে পানি ভেঙ্গে তিনি বাসায় প্রবেশ করেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরেও পানি উঠে যাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান।

অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে/ঢাকা ট্রিবিউন

নগরের দরগাহ মহল্লা এলাকার বাসিন্দা, প্রকাশনা সংস্থা চৈতন্যর স্বত্বাধিকারী রাজীব চৌধুরী বলেন, “শনিবার রাতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই দরগাহ মহল্লা এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সড়কে হাঁটু সমান পানি। এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।”

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরীতে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২ জুন রাতে ভারি বৃষ্টিতে সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানিতে তলিয়ে যায় নগরের শতাধিক এলাকা। এতে দুর্ভোগে পড়েন এসব এলাকার বাসিন্দারা। পানি ঢুকে পড়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। ডুবে যায় কয়েকটি প্রধান সড়ক। ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দেন নগরবাসী।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় নগরীর প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েন। 

এর আগে গত ২৯ মে এক রাতের ঢলে তলিয়ে গিয়েছিল সিলেটের পাঁচ উপজেলা। পুরো জেলায় দেখা দিয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি। তবে কয়েকদিন ধরেই কমছিল পানি। শনিবার জেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার কিছুটা ওপরে অবস্থান করলেও আর সব কটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।

জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে অধিকাংশ লোকজন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে গেছেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জেলার ৫৫১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪০ জন অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় শনিবার রাতের বৃষ্টিতে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

About

Popular Links