Tuesday, June 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‌‘গাছগুলো বাজে, পাতায় অফিস নষ্ট হচ্ছে তাই কেটে ফেলেছি‌’

বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই সরকারি অফিসের গাছ কেটেছেন এক কর্মকর্তা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কুটির শিল্প কর্পোরেশন কার্যালয় চত্বরের সাতটি গাছ অনুমোদন ছাড়াই কেটে বিক্রি করেছেন তাঁত শিল্প বোর্ডের ট্রেনার রকিব উদ্দিন। সম্প্রতি গাছগুলো কেটে মাটি ও ময়লা ফেলে গোড়া লুকানোর চেষ্টা চালান তিনি। 

আলীকদম সদরের পানবাজার বৌদ্ধ বিহার রোডে কুটির শিল্প কর্পোরেশন কার্যালয়ের অবস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে ফেলে রাখা কার্যালয়টি সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। ২০-২৫ বছর আগে সরকারি অর্থায়নে সেখানে সেগুন, গামারি, বেলজিয়াম, মেহগনি, কড়ই ও বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ রোপণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে।

সম্প্রতি সেখান থেকে পাঁচটি বড় আকারের মেহগনি ও বেলজিয়াম গাছ এবং মাঝারি আকারের দুটি গামারি গাছ কেটে ফেলা হয়। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, “রকিব উদ্দিন গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। সরকারি গাছ তিনি কেন কাটলেন তা বলতে পারি না।”

বান্দরবানের আলীকদমে সরকারি গাছ কেটে গোড়া ঢেকে ফেলার চেষ্টা করেছেন সরকারি কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন/ঢাকা ট্রিবিউন

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অফিসের গাছ কাটতে হলে বন বিভাগে লিখিত আবেদন করতে হয়। বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে গাছ কাটা যায় এবং তা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। কিন্তু আলীকদমের কুটির শিল্প কার্যালয়ের গাছ কাটতে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানান, বন বিভাগ আলীকদম তৈন রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।

অভিযুক্ত তাঁত শিল্পের ট্রেনার রকিব উদ্দিন বলেন, “গাছগুলো আমি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে কেটে ফেলেছি। এসব বাজে গাছ ১০-১৫ বছর আগে মারা গেছে। আর গাছের পাতার কারণে অফিসের এরিয়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেজন্য কেটে ফেলেছি।” 

মেহগনি, বেলজিয়াম ও গামারি কোন যুক্তিতে “বাজে গাছ”, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা অফিসের এরিয়া নষ্ট করছে।” একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদন না করার জন্য বলেন এই প্রতিবেদককে।

এ বিষয়ে কুটির শিল্প কর্পোরেশন বান্দরবানের উপ-ব্যবস্থাপক মো. শামীম আলম বলেন, “বিষয়টি আমি জানতাম না। জানতে পারলে আমি ব্যবস্থা নিতাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

About

Popular Links