Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাস কাউন্টারে আটকে রেখে গণধর্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

বুড়িমারী স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে গত ১৮ মার্চ বুড়িমারীতে আসেন ওই নারী।

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ১০:৩৭ পিএম

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে যশোদা পরিবহন নামে একটি বাস কাউন্টারে এক নারী যাত্রীকে (২৮) চার দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাটগ্রাম থানায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় বুড়িমারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোদা পরিবহন বাস কাউন্টারের কর্মচারী রেজাউল ইসলামকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানার ওসি মনসুর আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে গণধর্ষণের শিকার নারীকে উদ্ধার করে এবং কাউন্টার কর্মচারী রেজাউল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ওই নারী বাদী হয়ে রেজাউল ইসলামসহ মোট ৪ জনের বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। 

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায়। অভিযুক্ত রেজাউল বুড়িমারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের একই কমিটির সভাপতি তোসাদ্দেক হোসেন আলম।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ও একজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন পাটগ্রাম থানার ওসি মো. মনসুর আলী।

স্থানীয় সূত্র, মামলার বিবরণ এবং পাটগ্রাম থানা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বুড়িমারী স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে গত ১৮ মার্চ বুড়িমারীতে আসেন ওই নারী। এরপর তাকে কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার নাম করে যশোদা পরিবহনের বুড়িমারী কাউন্টারের একটি কক্ষে আটকে রেখে টানা তিন দিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বুড়িমারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম ও যুবলীগের এক নেতাসহ মোট ৪ জন। 

বৃহস্পতিবার (২১মার্চ) দুপুরে ওই বাস কাউন্টারের একটি কক্ষ থেকে কান্নার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা পাটগ্রাম থানা পুলিশকে অবহিত জানায়। খবর পেয়েই পাটগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় কাউন্টারের কর্মচারী রেজাউল করিমকে। 

ধর্ষণের শিকার নারীর দেওয়া তথ্য এবং রেজাউল করিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোট চার ধর্ষকের নাম জানতে পারে পুলিশ। 

ওই দিনই নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় রেজাউল করিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ওসি মো. মনসুর আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশ যশোদা বাস কাউন্টার ঘেরাও করে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক রেজাউল করিমকে আটক করে এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই নারী বাদী হয়ে মোট চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’’

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ভারতে পাঠানোর জন্য কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার নাম করে এক নারীকে যশোদা বাস কাউন্টারে গত ১৮ মার্চ থেকে আটকে রেখে গ্যাং রেপ করছিল একটি চক্র। গোপন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাস কাউন্টারে তাৎক্ষণিকভাবে পাটগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে রেজাউল ইসলাম নামে এক অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পাটগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে এবং ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

About

Popular Links