Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১৮ তলায় গিয়েও রক্ষা হলোনা বৃষ্টির

মারা যাওয়ার মাত্র ২ দিন আগে ৩য় বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন বৃষ্টি

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ০৫:৩৬ পিএম

আগুন আর ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ১২ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত গিয়েছিলেন বৃষ্টি। স্বামী, বাবাসহ স্বজনদের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন কীভাবে বাঁচবেন এই নরককুণ্ড থেকে। তবুও শেষরক্ষা হয়নি যশোরের মেয়ে শেখ জারিন তাসমিম বৃষ্টির।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডে নিহত যশোরের মেয়ে শেখ জারিন তাসমিম বৃষ্টির বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে একটি লাশবাহী গাড়িতে বৃষ্টির মরদেহ তার যশোরের বেজপাড়া মেইন রোডে বাড়িতে পৌঁছে। পরে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মসজিদে বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। বাদ আছর বেজপাড়া মসজিদে তার ২য় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। এরপর শহরের কারবালা গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বৃষ্টির স্বজনেরা এই মৃত্যুর জন্যে বিল্ডিংয়ের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অগ্নিকাণ্ডের জন্যে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

বৃষ্টির বাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, "ভবিষ্যতে যেন এমন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। বিনা কারণে যেন মানুষ মারা না যায়"।

বৃষ্টির শ্বশুর কাজী ইরাদ বলেন, "অপরিকল্পিতভাবে তৈরি এই বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি মোটে তিন ফুটের। এই রকম সরু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামা সম্ভব নয়। তাছাড়া ইমার্জেন্সি এক্সিট পথগুলো বন্ধ করে দারোয়ানরা আগেই পালিয়ে যায়। যেকারণে বিল্ডিংয়ের ভেতর আটকা পড়ে মানুষ"।

তাদের দাবি, বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না। কেননা ছাদে উঠার দরজাও ছিল বন্ধ।

নিহতের স্বামী যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার কাজী সাদ নূর বলেন, "বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। বৃষ্টি বলছিল আগুন আর ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ আসছে। আমি তাকে বলি, দৌঁড়ে উপরের দিকে চলে যাও। ১৮ তলায় অবস্থানকালে সে (বৃষ্টি) জানায় ধোঁয়ার কারণে আর যেতে পারছে না। এ সময় পাশ থেকে তার সহকর্মীরা তাকে সান্তনা দিচ্ছিল যে, তারা পাশেই আছে।" এরপর থেকে তার সঙ্গে মোবাইলফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। 

"আমার ছোটভাই বৃষ্টির নাম্বারে লাগাতার ফোন দিতে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফোনকল রিসিভ হয়। তবে ফোন রিসিভ করেন ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য। তিনি জানান যে সিমের মালিক মারা গেছেন", বলেন বৃষ্টির হতভাগ্য স্বামী সাদ নূর।

উল্লেখ্য, যশোর শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কাজ করতেন বনানীর এফআর টাওয়ারের ইইউআর সার্ভিস বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। 

প্রসঙ্গতঃ ২০১৬ সালে ২৬ মার্চ সহপাঠী যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার কাজী সাদ নূরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কাজী সাদ নূর ঢাকার রেডিসন হোটেলে সহ-ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে ঢাকার খিলক্ষেতে বসবাস করতেন তারা। মাত্র দুদিন আগে ২৬ মার্চ তৃতীয় বিয়েবার্ষিকী উদযাপন করেন তারা

About

Popular Links