Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বঙ্গবন্ধুর রোপন করা আমগাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা তার লোকজন দিয়ে গাছটির ডাল কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:০৫ পিএম

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে রোপন করা আমগাছের বেশ কয়েকটি বড় ডাল কেটে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার দোখলা বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসের নিকটবর্তী রেস্ট হাউজের পাশে ১৯৭১ সালে গাছটি লাগিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। 

বড় বড় ডালগুলো কেটে ফেলায় গাছটি এখন মরে যাওয়ার উপক্রম। অভিযোগ, বন বিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মানিক মিয়া তার লোকজন দিয়ে গাছটির ডাল কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। ঐতিহাসিক গাছটির ডাল কাটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ ও গণ্যমান্যরা।

জানা যায়, মধুপুরের অরণখোলা মৌজায় সংরক্ষিত বনভূমিতে ১৯৬২ সনে নির্মিত বন বিশ্রামাগারটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত। ১৯৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান তার স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে নিয়ে সর্বশেষ এই বন বিশ্রামাগারে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সময়েও এই বনবিশ্রামাগারটি ব্যবহৃত হয়েছে বন বিভাগের স্মৃতিফলকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম (৬০) বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে এখানে আমার দোকান। পূর্বসূরীদের মুখে শুনেছি বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে ওই আমগাছটি রোপন করেছিলেন। এমন একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন এভাবে ধ্বংসের চেষ্টায় আমরা ব্যথিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে রোপন করা আমগাছের ডাল এভাবে কেটে ফেলার সাহস তিনি কোথায় পেলেন? শিগগিরই স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মানিক মিয়া বলেন, বন বিশ্রামাগারটি সংস্কার করা হবে। ওই জায়গায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ এবং ফুলের বাগান করা হবে। এই জন্য ডিএফও স্যার শ্রমিকদের গাছের ছোট ছোট ডাল ও পাতা কাটতে বলেছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন আমি সেখানে না থাকায় শ্রমিকরা কাঠের লোভে বড় কয়েকটি ডাল কেটে ফেলেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আহমেদ পলি বলেন, ওই জায়গায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ করার জন্য কয়েকটি ছোট ডাল কাটার কথা ছিল, কিন্তু ভুলে শ্রমিকরা বড় ডাল কেটে ফেলেছে। গাছটি মারা যাবে কিনা দেখার জন্য আমি কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠাব। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল জেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ খান এ বিষয়ে ‘খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে’, বলে জানান।

About

Popular Links