Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিআইবি: পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোতে বড় প্রতারণা আছে

‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে ৫১ শতাংশ এখনো কর্মহীন। এমনকি অনেক ভুক্তভোগী এখনো ক্ষতিপূরণও পাননি।’

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩৩ পিএম

বার্ষিক পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হলে নতুন মজুরি কাঠামোতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন না বেড়ে বরং ২৬ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংস্থার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘পোশাক মালিকরা মজুরি বাড়ানোর নাম করে তাদের শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করেছেন। তারা আসলে নতুন মজুরি কাঠামোতে মজুরি ২৬ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন।’’

টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা সংবাদ সম্মেলনে ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি বছর শ্রমিকদের মজুরি পাঁচ শতাংশ বাড়ানোর একটি ব্যবস্থা রয়েছে। ‘কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি যে নতুন কাঠামোতে সত্যিকার অর্থে মজুরি বাড়েনি, বরং তা ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।’

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে গ্রেড-১ শ্রমিকদের মূল মজুরি ছিল সাড়ে আট হাজার টাকা এবং গত জানুয়ারিতে ঘোষিত নতুন সংশোধিত মজুরি কাঠামোতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। কিন্তু পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় নেয়া হলে তা হতো ১৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। অর্থাৎ, ইনক্রিমেন্ট যোগ না করায় বেতন দুই হাজার ৪০৫ টাকা কমে গেছে।

টিআইবি প্রধান বলেন, তৈরি পোশাক খাত উন্নতি করলেও এর সবখানে বৈষম্যও রয়েছে। ‘‘শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোতে বড় ধরনের প্রতারণা আছে। এমনকি মজুরির জন্য আন্দোলন করা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা দায়ের এবং অনেককে বরখাস্ত করা হয়েছে।’’

তিনি আরও বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন আইনে দুর্বলতা আছে এবং বেশিরভাগ ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত।

এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তাদের গবেষণাটি সঠিক।

তিনি জানান, ‘‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে ৫১ শতাংশ এখনো কর্মহীন। এমনকি অনেক ভুক্তভোগী এখনো ক্ষতিপূরণও পাননি।’’

About

Popular Links