• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালকদের কিছু কথা

  • প্রকাশিত ১২:০২ রাত নভেম্বর ৯, ২০১৮
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা পরিক্রমায়, তথা এই অঞ্চলে এবং গোটা বিশ্বেই এসব বিষয়াবলী নিয়ে মুক্ত আলোচনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে-এ আলোচনার দায় শুধু লেখক ও সাংবাদিক দের নয়- বরং কোন কোন বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করা যাবে সে সীমাবদ্ধতা না আরোপ করে মুক্ত চিন্তাকে যথাসম্ভব গ্রহণযোগ্যতা দিতে হবে।

প্রতি বছরের মতো আমাদের এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদ, অন্যভাষা ও সংস্কৃতির প্রদর্শনী এবং বাকস্বাধীনতার অপরিহার্যতা নিয়ে আলোচনা করা। 

অন্যান্য বছরের মতো এই বছরের ঢাকা লিট ফেস্টের অষ্টম সংস্করণে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, সংস্কৃতিকর্মী, চিন্তাবিদ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রতি বছরের মতো আমাদের এবারের আয়োজনেরও মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদ, অন্যভাষা ও সংস্কৃতিরপ্রদর্শনী এবং বাক স্বাধীনতার অপরিহার্যতা নিয়ে আলোচনা করা। এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতি বছরই আলাপ হয়ে থাকে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একাধিক প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে। 

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা পরিক্রমায়, তথা এই অঞ্চলে এবং গোটা বিশ্বেই এসব বিষয়াবলী নিয়ে মুক্ত আলোচনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে-এ আলোচনার দায় শুধু লেখক ও সাংবাদিক দের নয়- বরং কোন কোন বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করা যাবে সে সীমাবদ্ধতা না আরোপ করে মুক্ত চিন্তাকে যথাসম্ভব গ্রহণযোগ্যতা দিতে হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও মেয়েদের সম্পর্কে গৎ বাঁধা ধারণাকে ভেঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত অবিচার ও হিংস্র তাকে জোরালো কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে প্রতিপাদ্য করা হয়েছে।

এই বছর আমরা খ্যাতনামা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের মধ্যে যাদেরকে এই আয়োজনে আনতে পেরেছি তাঁরা হলেন – অ্যাডাম জনসন (পুলিৎজার), মোহাম্মেদ হানিফ (কমনওয়েলথ), ফিলিপ হেনসার (ওনদাৎজি), রিচার্ড বিয়ার্ড (পেন/একার্লি) এবং জেমস মীক (নন-ফিকশন ক্যাটাগরিতে ওনদাৎজি ও অরওয়েল পুরস্কারপ্রাপ্ত)। তবে এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। 

আমেরিকা থেকে আমাদের সাথে যোগ দিতে আসবেন মর্যাদাপূর্ণ হুইটিং পুরস্কারের পরিচালক কোর্টনি হোডেল। আমরা এবছরের ঢাকা লিট ফেস্টে কেমব্রিজ শর্টস্টোরি প্রাইজ এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারজেমকন এ্যাওয়ার্ডসেরও আয়োজন করবো।

আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে আমরা ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্য ম্যাগাজিন গ্র্যানটা পুনঃপ্রকাশ করতে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসতর অনন্য মেধাবী সাহিত্য রচয়িতাদের এই আয়োজনে নিয়ে আসতে পেরেছি – যাদের মধ্যে আছেন উপন্যাসিক জয়শ্রী মিস্রা, চন্দ্রহাস চৌধুরী এবং ওলগা রাসনোভা; গল্পকথক স্যালি পমি ক্লেটন; এবং সাংবাদিক নিসিদ হাজারী, প্যাট্রিক উইন, গোয়েন রবিনসন ও অন্যান্যরা। 

খ্যাতিমান ও পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী মনীষা কৈরালাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমারা অত্যন্ত আনন্দিত। মনীষা কৈরালা তাঁর শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাওয়া বই হীলড নিয়ে আলোচনা করবেন। আমরা নন্দিতা দাসের আলোচিত চলচ্চিত্র মান্টো তাঁরই উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরে উদ্বেলিত! এ ছাড়াও, এই আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক টিল্ডা সুইন্টন দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজনে থাকছেন। বরাবরের মতো এবারও তাঁর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে  - শিক্ষা।  

বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং নতুন লেখকদের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত থাকবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা আমাদের লোকসাহিত্য ও দেশীয় সংস্কৃতির অনেক অজানা দিক তুলে ধরবো। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির স্বরূপ উঠে আসবে।  

যারা আমাদেরকে স্পন্সর করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন, পার্টনার হিসেবে কাজ করেছেন, বিভিন্নভাবে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদেরকেসহ বাংলাএকাডেমিকে ও সব রকম সহযোগীতার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই।এ ছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমাদের সাথে থাকায় সকল অংশগ্রহণকারীকে অশেষ ধন্যবাদ।আপনাদের এই অনবদ্য উপস্থিতিরকারণেইএই আয়োজন আজ এক অনন্য উচ্চতায় দাঁড়াতে পেরেছে।